‘নিজ ভূখণ্ডেই’ ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত ৭
বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী বাসে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ১১ জন।
বুধবার (৩ জুন) আল জাজিরা প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
বুধবার টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় দোনেৎস্ক অঞ্চলের রুশ-নিযুক্ত প্রশাসনিক প্রধান দেনিস পুশিলিন জানান, বাসটি মস্কো থেকে ক্রিমিয়ার সিমফেরোপলের দিকে যাচ্ছিল। রুশ বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে তদন্ত কমিটি।
মূলত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বারা স্বীকৃত দোনেৎস্ক ইউক্রেনের একটি শহর। তবে রাশিয়ার সঙ্গে সীমান্তবর্তী দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল ২০১৪ সালের দনবাস যুদ্ধের পর থেকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে মস্কো।
এদিকে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় গভর্নর জানিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন জেলায় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এসব হামলার একদিন আগেই ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত হন। বুধবার সকালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাতে রাশিয়ার অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল টার্মিনাল, ক্রনস্টাড সামরিক ঘাঁটি এবং তামবভ অঞ্চলের একটি অস্ত্র উৎপাদনকারী কারখানা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল টার্মিনালটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং এটি রাশিয়ার যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, রাতভর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ভূপাতিত করা হয়েছে মোট ৩৫৪টি ইউক্রেনীয় ড্রোন।
আল জাজিরার সেন্ট পিটার্সবার্গ প্রতিনিধি ইউলিয়া শাপোভালোভা জানান, শহরের পশ্চিমাঞ্চলের কিরোভস্কি জেলায় একটি তেল টার্মিনালে আগুন লাগে এবং ড্রোন হামলার কারণে নিকটবর্তী বিমানবন্দরগুলোতে একাধিকবার ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিলম্বিত হয়েছে প্রায় ২০টি ফ্লাইট।









