Hi

০৩:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় একদিনে ৬২ ফিলিস্তিনিকে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় একদিনে কমপক্ষে আরও ৬২ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই খাদ্য সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।

রোববার (৩ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, গাজা উপত্যকায় শনিবার ভোর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে আল জাজিরাকে জানিয়েছে স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নিহতদের বেশিরভাগই খাদ্য সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।

নিহতদের মধ্যে ৩৮ জন এমন স্থান থেকে সহায়তা নিতে গিয়ে প্রাণ হারান, যেগুলো পরিচালনা করছে বিতর্কিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)। এই সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থনে পরিচালিত হচ্ছে।

এর আগেও জিএইচএফ পরিচালিত স্থানে সহায়তা নিতে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। যদিও গত সপ্তাহেই ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছিল, মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে সুবিধা দিতে তারা কিছু এলাকায় প্রতিদিনই হামলায় “কৌশলগত বিরতি” দেবে।

এই বিরতির ঘোষণার পর ২৭ জুলাই থেকে তা কার্যকর হয়। তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, শুধু বুধবার ও বৃহস্পতিবারেই খাদ্য সহায়তা নিতে গিয়ে ১০৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত সহায়তা নিতে গিয়ে মোট ১৩৭৩ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ের মধ্যে অপুষ্টি ও অনাহারে মারা গেছেন আরও ১৬৯ জন, যাদের মধ্যে ৯৩ জন শিশু।

সহায়তা নেওয়ার সময় ইসরায়েলি সেনা ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা চুক্তিতে নিয়োজিত মার্কিন কন্ট্রাক্টরদের কাছ থেকে সরাসরি গুলি চালানোর বহু অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন গাজাবাসীরা।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, স্পেন, জার্মানি ও ফ্রান্স বিমান থেকে ত্রাণ সরবরাহ করছে। তবে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএসহ বিভিন্ন মানবিক সংগঠন বলছে, আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহ অপ্রতুল এবং স্থলপথে সহায়তার প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার মাত্র ৩৬টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে, অথচ মানবিক প্রয়োজনে প্রতিদিন অন্তত ৬০০টি ট্রাক প্রয়োজন।

এদিকে খান ইউনিসে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদর দপ্তরে ইসরায়েলি হামলায় সংস্থাটির এক কর্মী নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় ভবনের প্রথম তলায় আগুন ধরে যায় বলে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে শনিবার আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খোদারির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক ত্রাণ সরবরাহ সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিদের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। বাজারে খাবার প্রায় নেই, আর যেটুকু আছে সেটি অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে খাবার সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে শেয়ার করুন

মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ই-মেইল সহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সংরক্ষণ করা হবে।

আপডেট : ০৪:০২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
১৩৪ দেখা
© সর্বস্বত স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © Jonogoner Khobor - জনগণের খবর
                                  কারিগরি সহযোগিতায়ঃ মো. সাইফুল ইসলাম                                  

গাজায় একদিনে ৬২ ফিলিস্তিনিকে হত্যা

আপডেট : ০৪:০২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় একদিনে কমপক্ষে আরও ৬২ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই খাদ্য সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।

রোববার (৩ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, গাজা উপত্যকায় শনিবার ভোর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে আল জাজিরাকে জানিয়েছে স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নিহতদের বেশিরভাগই খাদ্য সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।

নিহতদের মধ্যে ৩৮ জন এমন স্থান থেকে সহায়তা নিতে গিয়ে প্রাণ হারান, যেগুলো পরিচালনা করছে বিতর্কিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)। এই সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থনে পরিচালিত হচ্ছে।

এর আগেও জিএইচএফ পরিচালিত স্থানে সহায়তা নিতে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। যদিও গত সপ্তাহেই ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছিল, মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে সুবিধা দিতে তারা কিছু এলাকায় প্রতিদিনই হামলায় “কৌশলগত বিরতি” দেবে।

এই বিরতির ঘোষণার পর ২৭ জুলাই থেকে তা কার্যকর হয়। তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, শুধু বুধবার ও বৃহস্পতিবারেই খাদ্য সহায়তা নিতে গিয়ে ১০৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত সহায়তা নিতে গিয়ে মোট ১৩৭৩ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ের মধ্যে অপুষ্টি ও অনাহারে মারা গেছেন আরও ১৬৯ জন, যাদের মধ্যে ৯৩ জন শিশু।

সহায়তা নেওয়ার সময় ইসরায়েলি সেনা ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা চুক্তিতে নিয়োজিত মার্কিন কন্ট্রাক্টরদের কাছ থেকে সরাসরি গুলি চালানোর বহু অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন গাজাবাসীরা।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, স্পেন, জার্মানি ও ফ্রান্স বিমান থেকে ত্রাণ সরবরাহ করছে। তবে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএসহ বিভিন্ন মানবিক সংগঠন বলছে, আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহ অপ্রতুল এবং স্থলপথে সহায়তার প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার মাত্র ৩৬টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে, অথচ মানবিক প্রয়োজনে প্রতিদিন অন্তত ৬০০টি ট্রাক প্রয়োজন।

এদিকে খান ইউনিসে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদর দপ্তরে ইসরায়েলি হামলায় সংস্থাটির এক কর্মী নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় ভবনের প্রথম তলায় আগুন ধরে যায় বলে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে শনিবার আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খোদারির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক ত্রাণ সরবরাহ সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিদের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। বাজারে খাবার প্রায় নেই, আর যেটুকু আছে সেটি অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে খাবার সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।