Hi

০২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূ‌তের ১০০ দিন: বাণিজ্য চুক্তিকে বললেন ‘ঐতিহাসিক

জনগণের খবর নিউজ ডেস্ক

বাংলা‌দে‌শে মা‌র্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হি‌সে‌বে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ১০০ দিন পূর্ণ ক‌রে‌ছেন। এই সম‌য়ে তি‌নি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়েছেন ব‌লে মন্তব্য ঢাকার মা‌র্কিন দূতাবা‌সের। আর মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূত এই সম‌য়ে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিকে ঐতিহাসিক ব‌লে‌ছেন।

ঢাকায় মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বের ১০০ দিন উপলক্ষে বুধবার (২২ এপ্রিল) এক বার্তায় এমন মন্তব‌্য ক‌রে‌ছে দূতাবাস।

দূতাবান বল‌ছে, মাত্র ১০০ দিনেই রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়েছেন। বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য খাতে নতুন অংশীদারিত্ব থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক বিনিময় পর্যন্ত নানা উদ্যোগ আমাদের দুই দেশের মানুষকে আরও কাছে এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্র যখন তার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করছে, এমন সময়ে আমরা একসঙ্গে একটি দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে উৎসাহিত। প্রথম ১০০ দিন কেবলই এই যাত্রার সূচনা।

এক ভি‌ডিও বার্তায় মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূত ব‌লেন, বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমার আগমনের আজ ১০০ দিন পূর্ণ হলো। আমি ও আমার স্ত্রী ডিয়ান বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে অভাবনীয় উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছি। আমরা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশকে জানার সুযোগ উপভোগ করছি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণ করছি, পয়লা বৈশাখের উৎসবে আনন্দ করেছি, প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ দেখেছি এবং একজন স্থানীয় ব্লগারের সঙ্গে নতুন সব খাবারের স্বাদ নিচ্ছি। এর চেয়ে বেশি কিছু আমাদের চাওয়ার ছিল না।

তিনি বলেন, আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এখানে এসেছি। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ঠিক আগে। আমার দেশ যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম দেশ হিসেবে নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছিল।

রাষ্ট্রদূত ব‌লেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা নির্ধারণ করেছেন। আর আমি তা বাস্তবে রূপান্তর করতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।

বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এটি আমাদের বাণিজ্য ঘাটতির ভারসাম্য রক্ষা করবে এবং উভয় দেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে আমি বাংলাদেশের সর্বত্র মার্কিন ব্যবসায়ীদের হয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

অভিবাসন নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা অবৈধ অভিবাসন ও ভিসা জালিয়াতি মোকাবিলায় একত্রে কাজ করছি এবং একটি অবাধ ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের জন্য ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করছি। বাংলাদেশের সঙ্গে একটি নতুন স্বাস্থ্য অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা যক্ষ্মা ও হামের মতো রোগ মোকাবিলা করছি। 

তি‌নি ব‌লেন, এছাড়া আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে থাকা বৃহত্তম দাতা দেশ হিসেবে আমাদের অবস্থান ধরে রেখেছি। সেই সঙ্গে এই সমস্যার একটি রাজনৈতিক সমাধানের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ক্রিস্টেনসেন বলেন, আমি আরও একটি বিশেষ বছরে এখানে এসেছি। সামনে আমেরিকার ২৫০তম জন্মদিন। আমি আশা করি আপনারা সবাই আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। কারণ আমরা বাংলাদেশজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তির ২৫০ বছর উদযাপন করব।

সামনের দিনগুলো নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ১০০ দিন পর আমি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বেশি আশাবাদী। আমরা সামনে আরও কী কী অর্জন করতে পারব, তা দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। সবাই ভালো থাকবেন, আবার দেখা হবে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে শেয়ার করুন

মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ই-মেইল সহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সংরক্ষণ করা হবে।

আপডেট : ০২:১৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
১১৩ দেখা
© সর্বস্বত স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © Jonogoner Khobor - জনগণের খবর
                                  কারিগরি সহযোগিতায়ঃ মো. সাইফুল ইসলাম                                  

ঢাকায় মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূ‌তের ১০০ দিন: বাণিজ্য চুক্তিকে বললেন ‘ঐতিহাসিক

আপডেট : ০২:১৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

বাংলা‌দে‌শে মা‌র্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হি‌সে‌বে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ১০০ দিন পূর্ণ ক‌রে‌ছেন। এই সম‌য়ে তি‌নি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়েছেন ব‌লে মন্তব্য ঢাকার মা‌র্কিন দূতাবা‌সের। আর মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূত এই সম‌য়ে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিকে ঐতিহাসিক ব‌লে‌ছেন।

ঢাকায় মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বের ১০০ দিন উপলক্ষে বুধবার (২২ এপ্রিল) এক বার্তায় এমন মন্তব‌্য ক‌রে‌ছে দূতাবাস।

দূতাবান বল‌ছে, মাত্র ১০০ দিনেই রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়েছেন। বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য খাতে নতুন অংশীদারিত্ব থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক বিনিময় পর্যন্ত নানা উদ্যোগ আমাদের দুই দেশের মানুষকে আরও কাছে এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্র যখন তার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করছে, এমন সময়ে আমরা একসঙ্গে একটি দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে উৎসাহিত। প্রথম ১০০ দিন কেবলই এই যাত্রার সূচনা।

এক ভি‌ডিও বার্তায় মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূত ব‌লেন, বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমার আগমনের আজ ১০০ দিন পূর্ণ হলো। আমি ও আমার স্ত্রী ডিয়ান বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে অভাবনীয় উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছি। আমরা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশকে জানার সুযোগ উপভোগ করছি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণ করছি, পয়লা বৈশাখের উৎসবে আনন্দ করেছি, প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ দেখেছি এবং একজন স্থানীয় ব্লগারের সঙ্গে নতুন সব খাবারের স্বাদ নিচ্ছি। এর চেয়ে বেশি কিছু আমাদের চাওয়ার ছিল না।

তিনি বলেন, আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এখানে এসেছি। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ঠিক আগে। আমার দেশ যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম দেশ হিসেবে নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছিল।

রাষ্ট্রদূত ব‌লেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা নির্ধারণ করেছেন। আর আমি তা বাস্তবে রূপান্তর করতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।

বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এটি আমাদের বাণিজ্য ঘাটতির ভারসাম্য রক্ষা করবে এবং উভয় দেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে আমি বাংলাদেশের সর্বত্র মার্কিন ব্যবসায়ীদের হয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

অভিবাসন নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা অবৈধ অভিবাসন ও ভিসা জালিয়াতি মোকাবিলায় একত্রে কাজ করছি এবং একটি অবাধ ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের জন্য ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করছি। বাংলাদেশের সঙ্গে একটি নতুন স্বাস্থ্য অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা যক্ষ্মা ও হামের মতো রোগ মোকাবিলা করছি। 

তি‌নি ব‌লেন, এছাড়া আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে থাকা বৃহত্তম দাতা দেশ হিসেবে আমাদের অবস্থান ধরে রেখেছি। সেই সঙ্গে এই সমস্যার একটি রাজনৈতিক সমাধানের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ক্রিস্টেনসেন বলেন, আমি আরও একটি বিশেষ বছরে এখানে এসেছি। সামনে আমেরিকার ২৫০তম জন্মদিন। আমি আশা করি আপনারা সবাই আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। কারণ আমরা বাংলাদেশজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তির ২৫০ বছর উদযাপন করব।

সামনের দিনগুলো নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ১০০ দিন পর আমি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বেশি আশাবাদী। আমরা সামনে আরও কী কী অর্জন করতে পারব, তা দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। সবাই ভালো থাকবেন, আবার দেখা হবে।