Hi

০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলোচনায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ও ইসরায়েল-লেবানন

জনগণের খবর নিউজ ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ করেই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘আগামী দুই দিনের মধ্যেই’ নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।

নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে এবং পাকিস্তান একটি সম্ভাব্য আলোচনার কেন্দ্র হতে পারে।’

বিবিসি বলছে, এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। যদিও এই বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়, তবুও এটিকে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংলাপের ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, তেহরান ও পাকিস্তানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

একই সময়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা গেছে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর দুই দেশ সরাসরি আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ-মুখপাত্র টমি পিগট এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এই সংলাপ ভবিষ্যতে একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করতে পারে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৯৯৩ সালের পর এই প্রথম ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি সরকারি পর্যায়ের আলোচনা হচ্ছে।

বৈঠকে উভয় দেশই ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহর প্রভাব কমানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। লেবাননের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা দেশের ভেতরে ‘শক্তির একক নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং বহিরাগত প্রভাব কমাতে উদ্যোগী হবে। একইসঙ্গে তারা যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সংকট মোকাবিলার জন্য কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ‘অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে’ নিষ্ক্রিয় করতে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। তবে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে তারা সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থানে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত মাইকেল লেইটার আলোচনাটিকে ‘শান্তি ও দায়িত্বশীলতার বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যেখানে সীমান্ত পারাপার হবে শুধু ব্যবসা বা পর্যটনের জন্য, সংঘাতের জন্য নয়।

তার দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা নতুন কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে এখন এক দ্বৈত চিত্র দেখা যাচ্ছে, একদিকে যুদ্ধ ও উত্তেজনা, অন্যদিকে কূটনৈতিক সংলাপের নতুন সম্ভাবনা। ট্রাম্পের আলোচনার ইঙ্গিত, পাকিস্তানে মধ্যস্থতার ভূমিকা এবং ইসরায়েল-লেবাননের সরাসরি সংলাপ, সবকিছু মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এই সংকট কি নতুন এক কূটনৈতিক অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে?

তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই ধরনের প্রাথমিক অগ্রগতি অনেক সময়ই ভঙ্গুর হয়। বাস্তব শান্তি প্রতিষ্ঠা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের সংঘাত কতটা কমে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কতটা আন্তরিকভাবে সমঝোতার পথে এগোয় তার ওপর।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে শেয়ার করুন

মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ই-মেইল সহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সংরক্ষণ করা হবে।

আপডেট : ১০:২২:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
২০ দেখা
© সর্বস্বত স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © Jonogoner Khobor - জনগণের খবর
                                  কারিগরি সহযোগিতায়ঃ মো. সাইফুল ইসলাম                                  

আলোচনায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ও ইসরায়েল-লেবানন

আপডেট : ১০:২২:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ করেই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘আগামী দুই দিনের মধ্যেই’ নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।

নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে এবং পাকিস্তান একটি সম্ভাব্য আলোচনার কেন্দ্র হতে পারে।’

বিবিসি বলছে, এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। যদিও এই বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়, তবুও এটিকে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংলাপের ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, তেহরান ও পাকিস্তানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

একই সময়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা গেছে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর দুই দেশ সরাসরি আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ-মুখপাত্র টমি পিগট এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এই সংলাপ ভবিষ্যতে একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করতে পারে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৯৯৩ সালের পর এই প্রথম ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি সরকারি পর্যায়ের আলোচনা হচ্ছে।

বৈঠকে উভয় দেশই ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহর প্রভাব কমানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। লেবাননের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা দেশের ভেতরে ‘শক্তির একক নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং বহিরাগত প্রভাব কমাতে উদ্যোগী হবে। একইসঙ্গে তারা যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সংকট মোকাবিলার জন্য কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ‘অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে’ নিষ্ক্রিয় করতে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। তবে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে তারা সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থানে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত মাইকেল লেইটার আলোচনাটিকে ‘শান্তি ও দায়িত্বশীলতার বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যেখানে সীমান্ত পারাপার হবে শুধু ব্যবসা বা পর্যটনের জন্য, সংঘাতের জন্য নয়।

তার দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা নতুন কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে এখন এক দ্বৈত চিত্র দেখা যাচ্ছে, একদিকে যুদ্ধ ও উত্তেজনা, অন্যদিকে কূটনৈতিক সংলাপের নতুন সম্ভাবনা। ট্রাম্পের আলোচনার ইঙ্গিত, পাকিস্তানে মধ্যস্থতার ভূমিকা এবং ইসরায়েল-লেবাননের সরাসরি সংলাপ, সবকিছু মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এই সংকট কি নতুন এক কূটনৈতিক অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে?

তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই ধরনের প্রাথমিক অগ্রগতি অনেক সময়ই ভঙ্গুর হয়। বাস্তব শান্তি প্রতিষ্ঠা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের সংঘাত কতটা কমে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কতটা আন্তরিকভাবে সমঝোতার পথে এগোয় তার ওপর।