Hi

০২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

জনগণের খবর নিউজ ডেস্ক

দেশের অর্থনীতিতে আবারও একটি বড় স্বস্তির খবর এসেছে। দেশে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত আবারও বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৫১২ কোটি ৫৯ লাখ ডলার বা ৩৫.১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা ও ডলার সংকটের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

শুধু মোট রিজার্ভই নয়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) স্বীকৃত আন্তর্জাতিক হিসাবায়ন পদ্ধতি বা ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) অনুযায়ী নিট রিজার্ভের পরিমাণও বেশ সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হালনাগাদ তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৫ কোটি ৯০ লাখ ১০ হাজার ডলার বা ৩০.৪৬ বিলিয়ন ডলারে।

ব্যাংকিং খাতের রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের এই রিজার্ভ বৃদ্ধির খবরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বড় অঙ্কের আমদানি বিল পরিশোধ করার পরও রিজার্ভের এই উন্নতি হয়েছে।

সাধারণত, প্রতি দুই মাস অন্তর আকুর বিল পরিশোধের পর দেশের রিজার্ভে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। এবারও আকুর বিল পরিশোধের পর ধীরে ধীরে আবারও এই শক্তিশালী অবস্থানে উঠে এসেছে। এটি আর্থিক খাতের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক জানান দিচ্ছে।

বর্তমান রিজার্ভের এই মজুত দেশের অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা মজুত রয়েছে, তা দিয়ে দেশের প্রায় সাত মাসের সম্পূর্ণ আমদানি ব্যয় অনায়াসেই মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, যেকোনো দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকাকে নিরাপদ বলে বিবেচনা করা হয়। সেই হিসেবে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান কেবল নিরাপদই নয়, বরং বেশ শক্তিশালী।

বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই রিজার্ভ বৃদ্ধি সরকারের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বাড়তি ডলার খরচ করে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির এই কঠিন সময়ে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা হাতে থাকা অত্যন্ত জরুরি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এবং শিল্পকারখানার চাকা সচল রাখতে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। এমন একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে অবস্থান করাটা নীতিনির্ধারকদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রবাহ ও রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতার কারণেই রিজার্ভের এই শক্ত অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে প্রবাসী আয় ও বিদেশি বিনিয়োগের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত আরও শক্তিশালী হবে, যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে শেয়ার করুন

মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ই-মেইল সহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সংরক্ষণ করা হবে।

আপডেট : ০২:০৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
১৭৬ দেখা
© সর্বস্বত স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © Jonogoner Khobor - জনগণের খবর
                                  কারিগরি সহযোগিতায়ঃ মো. সাইফুল ইসলাম                                  

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

আপডেট : ০২:০৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

দেশের অর্থনীতিতে আবারও একটি বড় স্বস্তির খবর এসেছে। দেশে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত আবারও বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৫১২ কোটি ৫৯ লাখ ডলার বা ৩৫.১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা ও ডলার সংকটের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

শুধু মোট রিজার্ভই নয়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) স্বীকৃত আন্তর্জাতিক হিসাবায়ন পদ্ধতি বা ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) অনুযায়ী নিট রিজার্ভের পরিমাণও বেশ সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হালনাগাদ তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৫ কোটি ৯০ লাখ ১০ হাজার ডলার বা ৩০.৪৬ বিলিয়ন ডলারে।

ব্যাংকিং খাতের রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের এই রিজার্ভ বৃদ্ধির খবরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বড় অঙ্কের আমদানি বিল পরিশোধ করার পরও রিজার্ভের এই উন্নতি হয়েছে।

সাধারণত, প্রতি দুই মাস অন্তর আকুর বিল পরিশোধের পর দেশের রিজার্ভে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। এবারও আকুর বিল পরিশোধের পর ধীরে ধীরে আবারও এই শক্তিশালী অবস্থানে উঠে এসেছে। এটি আর্থিক খাতের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক জানান দিচ্ছে।

বর্তমান রিজার্ভের এই মজুত দেশের অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা মজুত রয়েছে, তা দিয়ে দেশের প্রায় সাত মাসের সম্পূর্ণ আমদানি ব্যয় অনায়াসেই মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, যেকোনো দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকাকে নিরাপদ বলে বিবেচনা করা হয়। সেই হিসেবে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান কেবল নিরাপদই নয়, বরং বেশ শক্তিশালী।

বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই রিজার্ভ বৃদ্ধি সরকারের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বাড়তি ডলার খরচ করে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির এই কঠিন সময়ে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা হাতে থাকা অত্যন্ত জরুরি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এবং শিল্পকারখানার চাকা সচল রাখতে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। এমন একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে অবস্থান করাটা নীতিনির্ধারকদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রবাহ ও রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতার কারণেই রিজার্ভের এই শক্ত অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে প্রবাসী আয় ও বিদেশি বিনিয়োগের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত আরও শক্তিশালী হবে, যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।