Hi

০৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

রাশিয়ার পূর্ব উপকূল, কামচাটকা উপদ্বীপের কাছে রোববার (২০ জুলাই) ভোরে ৭.৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পর উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে, বিশেষ করে রাশিয়া ও হাওয়াইয়ের কিছু অংশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে (ইউটিসি ০৭:১৫) এই ভূমিকম্পটি হয়। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার গভীরে এবং পেট্রোপাভলোভস্ক-কামচাটস্কি শহর থেকে প্রায় ১৪৪ কিলোমিটার পূর্বে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। প্রধান ভূমিকম্পের পর ৬.৬ ও ৬.৭ মাত্রার কয়েকটি আফটারশক বা পরাঘাত অনুভূত হয়।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র পূর্ব কামচাটকা উপকূলে প্রায় এক মিটার উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে। হাওয়াইয়েও সুনামির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে ঢেউ স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪৩ মিনিটের দিকে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কামচাটকা অঞ্চলের জরুরি বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো আহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে এবং স্থানীয় নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। অনেক এলাকায় সুনামি সতর্কতা সাইরেন চালু করা হয়েছে এবং সবাইকে শান্ত থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রয়টার্স জানায়, ইউএসজিএস এই ভূমিকম্পের জন্য যে সতর্কতা জারি করেছে, যার অর্থ প্রাণহানির বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতির সম্ভাবনা কম।

হাওয়াইয়ের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এখনো স্থানান্তরের প্রয়োজন নেই, তবে বাসিন্দাদের সৈকত ও সমুদ্রতট থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে যতক্ষণ না সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।

গত কয়েক বছরে কামচাটকা অঞ্চলে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এই এলাকা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি সক্রিয়তার জন্য পরিচিত।

বর্তমানে আফটারশক ও সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সবাইকে স্থানীয় প্রশাসন ও ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

ট্যাগ :

মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ই-মেইল সহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সংরক্ষণ করা হবে।

© সর্বস্বত স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © Jonogoner Khobor - জনগণের খবর
                                  কারিগরি সহযোগিতায়ঃ মো. সাইফুল ইসলাম                                  

রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

আপডেট : ১১:৫৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫

রাশিয়ার পূর্ব উপকূল, কামচাটকা উপদ্বীপের কাছে রোববার (২০ জুলাই) ভোরে ৭.৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পর উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে, বিশেষ করে রাশিয়া ও হাওয়াইয়ের কিছু অংশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে (ইউটিসি ০৭:১৫) এই ভূমিকম্পটি হয়। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার গভীরে এবং পেট্রোপাভলোভস্ক-কামচাটস্কি শহর থেকে প্রায় ১৪৪ কিলোমিটার পূর্বে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। প্রধান ভূমিকম্পের পর ৬.৬ ও ৬.৭ মাত্রার কয়েকটি আফটারশক বা পরাঘাত অনুভূত হয়।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র পূর্ব কামচাটকা উপকূলে প্রায় এক মিটার উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে। হাওয়াইয়েও সুনামির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে ঢেউ স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪৩ মিনিটের দিকে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কামচাটকা অঞ্চলের জরুরি বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো আহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে এবং স্থানীয় নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। অনেক এলাকায় সুনামি সতর্কতা সাইরেন চালু করা হয়েছে এবং সবাইকে শান্ত থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রয়টার্স জানায়, ইউএসজিএস এই ভূমিকম্পের জন্য যে সতর্কতা জারি করেছে, যার অর্থ প্রাণহানির বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতির সম্ভাবনা কম।

হাওয়াইয়ের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এখনো স্থানান্তরের প্রয়োজন নেই, তবে বাসিন্দাদের সৈকত ও সমুদ্রতট থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে যতক্ষণ না সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।

গত কয়েক বছরে কামচাটকা অঞ্চলে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এই এলাকা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি সক্রিয়তার জন্য পরিচিত।

বর্তমানে আফটারশক ও সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সবাইকে স্থানীয় প্রশাসন ও ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।