Hi

০৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জীবন বাজি রেখে মাদক নির্মূলে পুলিশ কাজ করছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সাহসিকতার সাথে জীবন বাজি রেখে মাদক নির্মূলে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিনি বলেন, পুলিশ জীবন বাজি রেখে কাজ করছে। অপরাধীরা সুযোগ নিতে পারছে না। গতকালের ঘটনাটিতে সাড়ে ৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি আটকই তার প্রমাণ।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রাজধানীর পল্টনে গুলিবিদ্ধ দুই পুলিশ সদস্যের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেবার পরে একথা জানান তিনি।

পল্টনের ঘটনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল, চট্টগ্রাম থেকে একটি গাড়ি আসছে। যেটার ভেতরে মাদক আছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির লালবাগ বিভাগের একটি টিম ফকিরাপুল এলাকায় চেক পোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায়। এই সময় একটি গাড়িকে থামার সিগন্যাল দিলে গাড়িটি সামনে এগিয়ে যায়। প্রায় ৬০০ গজ সামনে যাওয়ার পর গাড়িটি থামানো হয়।

উপদেষ্টা বলেন, গাড়ি থেকে একজন গুলি করে করলে আমাদের তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এরমধ্যে অভিযানে নেতৃত্ব দানকারী সহকারী পুলিশ কমিশনার আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে একজন কনস্টেবল ও এএসআই রয়েছে। এই ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার ও গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। গাড়ি থেকে ৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এতে গুরুতর আহত হয় পুলিশের সহকারী উপ পরিদর্শক আতিক হাসান এবং কনস্টেবল সুজন। আতিকের পেটের বাম পাশে এবং সুজনের বাম পায়ের হাঁটুতে গুলি লাগে। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তাদের পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আহত হয়েও মাদক কারবারি চারজনের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাদক কারবারিদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

মাদক কারবারিকে চ্যালেঞ্জ করার পরও পুলিশের ওপর হামলা করল, বিষয়টা কীভাবে দেখছেন– এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, পুলিশ খুব সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। গুলি করার পরও তারা তিনজনকে আটক করেছে। মাদক ও গাড়ি জব্দ করেছে। জীবন বাজি রেখে মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

পুলিশের অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে কথা উঠেছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে ভারী অস্ত্র- এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই ঘটনায় ভারী অস্ত্র ব্যবহার হয়নি। পিস্তল ব্যবহার হয়েছে।

পুলিশের জীবন রক্ষায় যে অস্ত্র নিয়ে কাজ করছে, এটা যথেষ্ট কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের যে ধরনের অস্ত্র দরকার সেটা দিয়েই কাজ করবে।

এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী, ডিবির যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম, রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :

মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ই-মেইল সহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সংরক্ষণ করা হবে।

© সর্বস্বত স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © Jonogoner Khobor - জনগণের খবর
                                  কারিগরি সহযোগিতায়ঃ মো. সাইফুল ইসলাম                                  

জীবন বাজি রেখে মাদক নির্মূলে পুলিশ কাজ করছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট : ১২:১৬:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

সাহসিকতার সাথে জীবন বাজি রেখে মাদক নির্মূলে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিনি বলেন, পুলিশ জীবন বাজি রেখে কাজ করছে। অপরাধীরা সুযোগ নিতে পারছে না। গতকালের ঘটনাটিতে সাড়ে ৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি আটকই তার প্রমাণ।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রাজধানীর পল্টনে গুলিবিদ্ধ দুই পুলিশ সদস্যের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেবার পরে একথা জানান তিনি।

পল্টনের ঘটনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল, চট্টগ্রাম থেকে একটি গাড়ি আসছে। যেটার ভেতরে মাদক আছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির লালবাগ বিভাগের একটি টিম ফকিরাপুল এলাকায় চেক পোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায়। এই সময় একটি গাড়িকে থামার সিগন্যাল দিলে গাড়িটি সামনে এগিয়ে যায়। প্রায় ৬০০ গজ সামনে যাওয়ার পর গাড়িটি থামানো হয়।

উপদেষ্টা বলেন, গাড়ি থেকে একজন গুলি করে করলে আমাদের তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এরমধ্যে অভিযানে নেতৃত্ব দানকারী সহকারী পুলিশ কমিশনার আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে একজন কনস্টেবল ও এএসআই রয়েছে। এই ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার ও গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। গাড়ি থেকে ৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এতে গুরুতর আহত হয় পুলিশের সহকারী উপ পরিদর্শক আতিক হাসান এবং কনস্টেবল সুজন। আতিকের পেটের বাম পাশে এবং সুজনের বাম পায়ের হাঁটুতে গুলি লাগে। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তাদের পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আহত হয়েও মাদক কারবারি চারজনের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাদক কারবারিদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

মাদক কারবারিকে চ্যালেঞ্জ করার পরও পুলিশের ওপর হামলা করল, বিষয়টা কীভাবে দেখছেন– এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, পুলিশ খুব সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। গুলি করার পরও তারা তিনজনকে আটক করেছে। মাদক ও গাড়ি জব্দ করেছে। জীবন বাজি রেখে মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

পুলিশের অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে কথা উঠেছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে ভারী অস্ত্র- এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই ঘটনায় ভারী অস্ত্র ব্যবহার হয়নি। পিস্তল ব্যবহার হয়েছে।

পুলিশের জীবন রক্ষায় যে অস্ত্র নিয়ে কাজ করছে, এটা যথেষ্ট কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের যে ধরনের অস্ত্র দরকার সেটা দিয়েই কাজ করবে।

এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী, ডিবির যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম, রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।