Hi

০৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বোরকা পরে পালানোর চেষ্টা করে সেই ৮ম শ্রেণি পাশ চিকিৎসক

রিপোর্টারের নাম

রংপুর ব্যুরো:

রংপুর নগরীর ইউনাইটেড হাসপাতালের পাঁচ বছর ধরে নেই লাইসেন্স নবায়ন, নেই পরিবেশ ছাড়পত্রসহ বৈধ কোনো কাগজপত্র। তবুও ওই হাসপাতালে জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা চলছে সমানতলে।

দীর্ঘদিন ধরে ওই হাসপাতালে জটিল কঠিন রোগের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার করে আসছে এক যুবক। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর বুধবার  সকাল ১১টার দিকে ওই হাসপাতালে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। অপারেশন কক্ষে গিয়ে যুবক প্রশান্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন রংপুর জেলা সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা। পরে সেই যুবক বোরকা পরে হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাত থেকে রক্ষা পাননি।

দুই ঘণ্টা টয়লেটে বোরকা পরে লুকিয়ে থাকার পর প্রশান্তকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান মিশু তাঁকে তিন মাসের কারাদন্ড দেন। এসময় হাসপাতালের মালিক সামসুদ তিবরীজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন দিনের কারাদন্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক।

জরিমানার টাকা পরিশোধ করে জেলের হাত থেকে রক্ষা পান সামসুদ তিবরীজ।

রংপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা পলাশবাড়ী উপজেলার পশ্চিম গোপীনাথপুর গ্রামের ময়না বেগমের (২৬) সন্তান প্রসববেদনা উঠলে বুধবার সকালে ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির কিছুক্ষণ পর অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে তাঁর সিজার করা হয়।

সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা বলেন, অভিযানে ওই বেসরকারি হাসপাতালের ওটিতে গিয়ে এক প্রসূতি নারীকে পাওয়া যায়। তখন সিজার করে তাঁর সন্তান বের করা হয়েছিল। সেলাই দিচ্ছিলেন এক যুবক। তিনি প্রথমে নিজেকে চিকিৎসক দাবি করেন। পরে বলেন, তিনি চিকিৎসক নয়, ৮ম শ্রেণি পাস করেছি মাত্র। এরপর তিনি বোরকা পরে হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন।

বেসরকারি হাসপাতালের মালিক দাবি করছিলেন ওই নারীর সিজার করিয়েছেন রংপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির চিকিৎসক রিফাত আরা। তবে রিফাতকে ওই সময়ে পাওয়া যায়নি এমনটাই বলেন সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা।

সিভিল সার্জন বলেন, ওই বেসরকারি হাসপাতালের বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। লাইসেন্সের মেয়াদও পাঁচ বছর আগে শেষ হয়েছে। নবায়নের জন্য আর আবেদন করেনি।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে শেয়ার করুন

মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ই-মেইল সহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সংরক্ষণ করা হবে।

আপডেট : ০৫:৩১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
১২৩ দেখা
© সর্বস্বত স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © Jonogoner Khobor - জনগণের খবর
                                  কারিগরি সহযোগিতায়ঃ মো. সাইফুল ইসলাম                                  

বোরকা পরে পালানোর চেষ্টা করে সেই ৮ম শ্রেণি পাশ চিকিৎসক

আপডেট : ০৫:৩১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রংপুর ব্যুরো:

রংপুর নগরীর ইউনাইটেড হাসপাতালের পাঁচ বছর ধরে নেই লাইসেন্স নবায়ন, নেই পরিবেশ ছাড়পত্রসহ বৈধ কোনো কাগজপত্র। তবুও ওই হাসপাতালে জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা চলছে সমানতলে।

দীর্ঘদিন ধরে ওই হাসপাতালে জটিল কঠিন রোগের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার করে আসছে এক যুবক। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর বুধবার  সকাল ১১টার দিকে ওই হাসপাতালে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। অপারেশন কক্ষে গিয়ে যুবক প্রশান্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন রংপুর জেলা সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা। পরে সেই যুবক বোরকা পরে হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাত থেকে রক্ষা পাননি।

দুই ঘণ্টা টয়লেটে বোরকা পরে লুকিয়ে থাকার পর প্রশান্তকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান মিশু তাঁকে তিন মাসের কারাদন্ড দেন। এসময় হাসপাতালের মালিক সামসুদ তিবরীজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন দিনের কারাদন্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক।

জরিমানার টাকা পরিশোধ করে জেলের হাত থেকে রক্ষা পান সামসুদ তিবরীজ।

রংপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা পলাশবাড়ী উপজেলার পশ্চিম গোপীনাথপুর গ্রামের ময়না বেগমের (২৬) সন্তান প্রসববেদনা উঠলে বুধবার সকালে ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির কিছুক্ষণ পর অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে তাঁর সিজার করা হয়।

সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা বলেন, অভিযানে ওই বেসরকারি হাসপাতালের ওটিতে গিয়ে এক প্রসূতি নারীকে পাওয়া যায়। তখন সিজার করে তাঁর সন্তান বের করা হয়েছিল। সেলাই দিচ্ছিলেন এক যুবক। তিনি প্রথমে নিজেকে চিকিৎসক দাবি করেন। পরে বলেন, তিনি চিকিৎসক নয়, ৮ম শ্রেণি পাস করেছি মাত্র। এরপর তিনি বোরকা পরে হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন।

বেসরকারি হাসপাতালের মালিক দাবি করছিলেন ওই নারীর সিজার করিয়েছেন রংপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির চিকিৎসক রিফাত আরা। তবে রিফাতকে ওই সময়ে পাওয়া যায়নি এমনটাই বলেন সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা।

সিভিল সার্জন বলেন, ওই বেসরকারি হাসপাতালের বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। লাইসেন্সের মেয়াদও পাঁচ বছর আগে শেষ হয়েছে। নবায়নের জন্য আর আবেদন করেনি।