Hi

০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এখন কীভাবে খাব ছাওয়া দুইটাক ধরি?

রিপোর্টারের নাম

রংপুর ব্যুরো:

গুলিবিদ্ধ স্বামী শাহীন আলম রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। কোলে দেড় মাসের শিশু নিয়ে পাশে বসে আছেন জেসমিন আক্তার।বাড়ীতে দুই বছরের আরেক শিশু শ্বশুরের কাছে। স্বামীর যন্ত্রণাভরা নিশ্বাসে কাঁপছে তাঁর বুক।

দুই শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা জেসমিনের চোখেমুখে। এমন চিত্র দেখা যায় রমেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। জেসমিন আক্তার বলেন, ‘সকালে বাড়ি থাকি ইপিজেডের কোম্পানিতে ডিউটিত গেইছে। যাওয়ার পথে গুলি লাগছে। গুলি লাগি পড়ি গেইছে। নীলফামারী মেডিকেল নিগাইছে। ওটে থাকি রংপুর পাঠাইছে। এটে চিকিৎসা চলোছে। আমার স্বামীর গুলি লাগছে, দুইটা ছাওয়াক ধরি কীভাবে খাব? চাকরি করে, ওই টাকা দিয়া ছাওয়া ছোটক ধরি চলি। এখন আমরা কীভাবে খাব ছাওয়া দুইটাক ধরি?

শাহীন আলম নীলফামারীর চংড়া কিসামতডাঙ্গী তেলিপাড়া গ্রামের দিনমজুর রজব আলীর ছেলে। তিনি নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে দেশবন্ধু পোশাক কারখানার শ্রমিক। প্রতিদিনের মতো গত ২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার কাজে গেলে এভারগ্রিন কোম্পানির শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। রমেক হাসপাতারে শয্যায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন শাহীন। পাশে স্ত্রী, বাবা ও স্বজনেরা।

একই ঘটনায় আহত হয়ে ভর্তি রয়েছেন ম্যাজেন বিডি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শ্রমিক শামীম হোসেনও। তাঁর ভাই ইমরান বলেন, গুলি তাঁর ভাইয়ের বাম পায়ের মাংসপেশি ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। শামীম হোসেনের বাড়ি নীলফামারীর সোনারায়। তিনিও কাজের উদ্দেশ্যে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। শাহীন আলম বলেন, অফিস টাইম, গেটে গেছি, যাইতে দিবে না। সেনাবাহিনীর সঙ্গে এক সময় কথা-কাটাকাটি, ঢিল ছোড়াছুড়ি শুরু হয়া গেইছে। ইটপাটকেল মারতে মারতে সেনাবাহিনী গুলি ছুড়ছে। গুলি ছোড়ার পর পাশে বন্ধু ছিল, ওরে গুলি লাগছে। পাশে আরেকজন ছিল তাঁর বুকে গুলি লাগছে, মারা গেইছে। আমার ঊরুতে গুলি লাগছে। অপারেশন হইছে; এখনো গুলি বের করার পারে নাই।

যতবার অপারেশন করোছে, ততবার আলট্রাসনোগ্রাম, এক্সরে ডাবল করা লাগছে। এখনো গুলি আটকা, ব্যথায় শরীর খারাপ। শাহীনের বাবা রজব আলী বলেন, আমার জমিজমা নাই। দুই ছেলে, শাহীন ইপিজেট করে বউ-ছাওয়া নিয়া আলাদা খায়। ওটে যে টাকা পায় তাকে দিয়া কোনো রকম পরিবার চলে। ওয় এখন গুলি খায়া হাসপাতালোত, ওর সংসার কায় চালাইবে? ছোট ছাওয়া দুইটাক কায় দেখবে?  রমেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাহাবুব হোসেন মানিক বলেন, তিনজন শ্রমিক ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে নুরনবী নামে একজন রাতেই চলে গেছেন। বাকি দুজন শাহীন আলম ও শামীম হোসেনের অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাঁরা এখন ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আছেন।

একই ঘটনায় আহত পুলিশের এসআই ফয়জুল ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডের এভারগ্রিন কোম্পানির কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে ২৩ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা।

পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এসময় গুলিতে নিহত হন ইকু ইন্টারন্যাশনাল নিটিংয়ের শ্রমিক হাবিব। আহত হন অন্তত ১০ জন শ্রমিক, গুরুতর তিনজনকে রমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে শেয়ার করুন

মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ই-মেইল সহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সংরক্ষণ করা হবে।

আপডেট : ০৫:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
১৫৬ দেখা
© সর্বস্বত স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © Jonogoner Khobor - জনগণের খবর
                                  কারিগরি সহযোগিতায়ঃ মো. সাইফুল ইসলাম                                  

এখন কীভাবে খাব ছাওয়া দুইটাক ধরি?

আপডেট : ০৫:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রংপুর ব্যুরো:

গুলিবিদ্ধ স্বামী শাহীন আলম রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। কোলে দেড় মাসের শিশু নিয়ে পাশে বসে আছেন জেসমিন আক্তার।বাড়ীতে দুই বছরের আরেক শিশু শ্বশুরের কাছে। স্বামীর যন্ত্রণাভরা নিশ্বাসে কাঁপছে তাঁর বুক।

দুই শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা জেসমিনের চোখেমুখে। এমন চিত্র দেখা যায় রমেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। জেসমিন আক্তার বলেন, ‘সকালে বাড়ি থাকি ইপিজেডের কোম্পানিতে ডিউটিত গেইছে। যাওয়ার পথে গুলি লাগছে। গুলি লাগি পড়ি গেইছে। নীলফামারী মেডিকেল নিগাইছে। ওটে থাকি রংপুর পাঠাইছে। এটে চিকিৎসা চলোছে। আমার স্বামীর গুলি লাগছে, দুইটা ছাওয়াক ধরি কীভাবে খাব? চাকরি করে, ওই টাকা দিয়া ছাওয়া ছোটক ধরি চলি। এখন আমরা কীভাবে খাব ছাওয়া দুইটাক ধরি?

শাহীন আলম নীলফামারীর চংড়া কিসামতডাঙ্গী তেলিপাড়া গ্রামের দিনমজুর রজব আলীর ছেলে। তিনি নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে দেশবন্ধু পোশাক কারখানার শ্রমিক। প্রতিদিনের মতো গত ২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার কাজে গেলে এভারগ্রিন কোম্পানির শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। রমেক হাসপাতারে শয্যায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন শাহীন। পাশে স্ত্রী, বাবা ও স্বজনেরা।

একই ঘটনায় আহত হয়ে ভর্তি রয়েছেন ম্যাজেন বিডি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শ্রমিক শামীম হোসেনও। তাঁর ভাই ইমরান বলেন, গুলি তাঁর ভাইয়ের বাম পায়ের মাংসপেশি ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। শামীম হোসেনের বাড়ি নীলফামারীর সোনারায়। তিনিও কাজের উদ্দেশ্যে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। শাহীন আলম বলেন, অফিস টাইম, গেটে গেছি, যাইতে দিবে না। সেনাবাহিনীর সঙ্গে এক সময় কথা-কাটাকাটি, ঢিল ছোড়াছুড়ি শুরু হয়া গেইছে। ইটপাটকেল মারতে মারতে সেনাবাহিনী গুলি ছুড়ছে। গুলি ছোড়ার পর পাশে বন্ধু ছিল, ওরে গুলি লাগছে। পাশে আরেকজন ছিল তাঁর বুকে গুলি লাগছে, মারা গেইছে। আমার ঊরুতে গুলি লাগছে। অপারেশন হইছে; এখনো গুলি বের করার পারে নাই।

যতবার অপারেশন করোছে, ততবার আলট্রাসনোগ্রাম, এক্সরে ডাবল করা লাগছে। এখনো গুলি আটকা, ব্যথায় শরীর খারাপ। শাহীনের বাবা রজব আলী বলেন, আমার জমিজমা নাই। দুই ছেলে, শাহীন ইপিজেট করে বউ-ছাওয়া নিয়া আলাদা খায়। ওটে যে টাকা পায় তাকে দিয়া কোনো রকম পরিবার চলে। ওয় এখন গুলি খায়া হাসপাতালোত, ওর সংসার কায় চালাইবে? ছোট ছাওয়া দুইটাক কায় দেখবে?  রমেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাহাবুব হোসেন মানিক বলেন, তিনজন শ্রমিক ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে নুরনবী নামে একজন রাতেই চলে গেছেন। বাকি দুজন শাহীন আলম ও শামীম হোসেনের অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাঁরা এখন ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আছেন।

একই ঘটনায় আহত পুলিশের এসআই ফয়জুল ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডের এভারগ্রিন কোম্পানির কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে ২৩ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা।

পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এসময় গুলিতে নিহত হন ইকু ইন্টারন্যাশনাল নিটিংয়ের শ্রমিক হাবিব। আহত হন অন্তত ১০ জন শ্রমিক, গুরুতর তিনজনকে রমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।