Hi

০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোবিন্দগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকের উপর হামলা

রিপোর্টারের নাম

ফয়সাল রহমান জনি, গাইবান্ধা

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এস এর উপজেলা প্রতিনিধি ও নিরাপদ নিউজের জেলা প্রতিনিধি মাহমুদ হাসান নাইম এবং তার ক্যামেরাম্যান নিয়াজ মোর্শেদ সন্ত্রাসীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। হামলাকারীরা তাদের লাঠি, সোটা ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে নগদ টাকা, স্মার্টফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়।

শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে দরবস্ত ইউনিয়নের চরকতলা বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

সাংবাদিকরা জমি দলিল সংক্রান্ত অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ভিডিও ধারণ শুরু করলে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায়। হামলায় নেতৃত্ব দেয় দরবস্ত ইউনিয়নের বগুলাগাড়ী (নয়াপাড়া) গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে মাহাবুবুর ইসলাম, আখিরাফতেপুর গ্রামের লিচু মিয়া, সিংজানি (কালিতলা) গ্রামের বাপ্পী মিয়া এবং মারিয়া গ্রামের মোত্তালেব হোসেনসহ আরও ৫-৭ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল।

সাংবাদিক নাইম অভিযোগ করেন, সত্য প্রকাশের জন্য তথ্য জানতে চাওয়ার অপরাধে আমাদের উপর হামলা হয়েছে। তারা প্রমাণ নষ্ট করার জন্য ক্যামেরার ফুটেজও ডিলেট করেছে।

স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মওলানা আবুল হোসেন মাস্টার এ প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তার দায় জামায়াতে ইসলামী বহন করবে না। আমরা কখনো সাংবাদিক নির্যাতনকে সমর্থন করি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, সাংবাদিকদের উপর এভাবে হামলা হওয়া গণতন্ত্র ও মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য অশনিসংকেত। অপরাধীরা দ্রুত গ্রেপ্তার হোক। আরেকজন সচেতন নাগরিক মন্তব্য করেন, সত্য লিখতে গেলে যদি সাংবাদিককে মার খেতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার কোথায়?

ঘটনার পর গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে সাংবাদিকদের ক্যামেরা থেকে ছিনিয়ে নেয়া মেমোরি কার্ড উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, প্রমাণ উদ্ধারের মাধ্যমে আমরা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে কাজ করছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে শেয়ার করুন

মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ই-মেইল সহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সংরক্ষণ করা হবে।

আপডেট : ০৭:০১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
১৫৯ দেখা
© সর্বস্বত স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © Jonogoner Khobor - জনগণের খবর
                                  কারিগরি সহযোগিতায়ঃ মো. সাইফুল ইসলাম                                  

গোবিন্দগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকের উপর হামলা

আপডেট : ০৭:০১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

ফয়সাল রহমান জনি, গাইবান্ধা

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এস এর উপজেলা প্রতিনিধি ও নিরাপদ নিউজের জেলা প্রতিনিধি মাহমুদ হাসান নাইম এবং তার ক্যামেরাম্যান নিয়াজ মোর্শেদ সন্ত্রাসীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। হামলাকারীরা তাদের লাঠি, সোটা ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে নগদ টাকা, স্মার্টফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়।

শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে দরবস্ত ইউনিয়নের চরকতলা বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

সাংবাদিকরা জমি দলিল সংক্রান্ত অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ভিডিও ধারণ শুরু করলে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায়। হামলায় নেতৃত্ব দেয় দরবস্ত ইউনিয়নের বগুলাগাড়ী (নয়াপাড়া) গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে মাহাবুবুর ইসলাম, আখিরাফতেপুর গ্রামের লিচু মিয়া, সিংজানি (কালিতলা) গ্রামের বাপ্পী মিয়া এবং মারিয়া গ্রামের মোত্তালেব হোসেনসহ আরও ৫-৭ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল।

সাংবাদিক নাইম অভিযোগ করেন, সত্য প্রকাশের জন্য তথ্য জানতে চাওয়ার অপরাধে আমাদের উপর হামলা হয়েছে। তারা প্রমাণ নষ্ট করার জন্য ক্যামেরার ফুটেজও ডিলেট করেছে।

স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মওলানা আবুল হোসেন মাস্টার এ প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তার দায় জামায়াতে ইসলামী বহন করবে না। আমরা কখনো সাংবাদিক নির্যাতনকে সমর্থন করি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, সাংবাদিকদের উপর এভাবে হামলা হওয়া গণতন্ত্র ও মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য অশনিসংকেত। অপরাধীরা দ্রুত গ্রেপ্তার হোক। আরেকজন সচেতন নাগরিক মন্তব্য করেন, সত্য লিখতে গেলে যদি সাংবাদিককে মার খেতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার কোথায়?

ঘটনার পর গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে সাংবাদিকদের ক্যামেরা থেকে ছিনিয়ে নেয়া মেমোরি কার্ড উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, প্রমাণ উদ্ধারের মাধ্যমে আমরা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে কাজ করছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।