Hi

০৫:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কারোপ, আজ থেকে কার্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশি রফতানি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আজ বৃহস্পতিবার (০৭ আগস্ট) থেকে কার্যকর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরে (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ১ মিনিট) পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা। এ সময়ের পর চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে থাকা জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রগামী যেসব পণ্য তোলা হবে, সেগুলোতে বসবে পাল্টা শুল্ক। চট্টগ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে কনটেইনারবাহী পণ্য পৌঁছাতে ৩০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগে।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম বাজার। আবার যত পণ্য দেশটিতে বাংলাদেশ রফতানি করে এর ৮৬ শতাংশের বেশি হলো তৈরি পোশাক। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাব মতে, সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৮৭৬ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৬০ কোটি ডলার। এত দিন বাংলাদেশের পণ্যে কার্যকর গড় শুল্কহার ছিল ১৫ শতাংশ। তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে গড় কার্যকর শুল্কহার ছিল ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। নতুন করে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক যুক্ত হওয়ার পর গড় কার্যকর শুল্কহার আরও বাড়বে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, গত বছর বাংলাদেশ প্রতিটি টি-শার্ট যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করেছে ১ ডলার ৬২ সেন্টে (১৯৯ টাকা প্রায়)। এই টি-শার্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আদায় করেছে ২৭ সেন্ট (৩৩ টাকা)। এখন ২০ শতাংশ হারে পাল্টা শুল্ক হিসাবে দিতে হবে আরও বাড়তি ৩২ সেন্ট (৩৯ টাকা)। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে একটি টি-শার্ট নিতে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের গড়ে ৫৯ সেন্ট (৭২ টাকা) শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের কারণে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র পাকিস্তানকেই কিছুটা কম শুল্ক দিতে হবে। অন্যান্য প্রতিযোগী দেশগুলোর জন্য শুল্কহার বাংলাদেশের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে ভারত থেকে একটি টি-শার্ট নিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের মোট শুল্ক দিতে হবে ১ ডলার ২৫ সেন্ট। ভিয়েতনামের প্রতিটি টি-শার্টে গড়ে শুল্ক দিতে হবে ৯৮ সেন্ট। ইন্দোনেশিয়ার প্রতিটি টি-শার্টে গড়ে শুল্ক ৯০ সেন্ট, কম্বোডিয়ার ৮৯ সেন্ট এবং পাকিস্তানের টি-শার্টে ৫২ সেন্ট শুল্ক দিতে হবে। এছাড়া ২০২০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে সাড়ে ৭ শতাংশ বাড়তি শুল্ক দিয়ে আসছিল চীন। শিগগিরই দেশটির ওপর চূড়ান্ত পাল্টা শুল্কহার ঘোষণা করার কথা যুক্তরাষ্ট্রের। তবে বর্তমানে পাল্টা শুল্ক ৩০ শতাংশ ধরে নিলে চীনের প্রতিটি টি-শার্ট যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিতে শুল্ক দিতে হবে ৮২ সেন্ট।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে শেয়ার করুন

মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ই-মেইল সহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সংরক্ষণ করা হবে।

আপডেট : ০৯:২০:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
১১১ দেখা
© সর্বস্বত স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © Jonogoner Khobor - জনগণের খবর
                                  কারিগরি সহযোগিতায়ঃ মো. সাইফুল ইসলাম                                  

বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কারোপ, আজ থেকে কার্যকর

আপডেট : ০৯:২০:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশি রফতানি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আজ বৃহস্পতিবার (০৭ আগস্ট) থেকে কার্যকর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরে (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ১ মিনিট) পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা। এ সময়ের পর চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে থাকা জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রগামী যেসব পণ্য তোলা হবে, সেগুলোতে বসবে পাল্টা শুল্ক। চট্টগ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে কনটেইনারবাহী পণ্য পৌঁছাতে ৩০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগে।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম বাজার। আবার যত পণ্য দেশটিতে বাংলাদেশ রফতানি করে এর ৮৬ শতাংশের বেশি হলো তৈরি পোশাক। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাব মতে, সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৮৭৬ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৬০ কোটি ডলার। এত দিন বাংলাদেশের পণ্যে কার্যকর গড় শুল্কহার ছিল ১৫ শতাংশ। তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে গড় কার্যকর শুল্কহার ছিল ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। নতুন করে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক যুক্ত হওয়ার পর গড় কার্যকর শুল্কহার আরও বাড়বে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, গত বছর বাংলাদেশ প্রতিটি টি-শার্ট যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করেছে ১ ডলার ৬২ সেন্টে (১৯৯ টাকা প্রায়)। এই টি-শার্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আদায় করেছে ২৭ সেন্ট (৩৩ টাকা)। এখন ২০ শতাংশ হারে পাল্টা শুল্ক হিসাবে দিতে হবে আরও বাড়তি ৩২ সেন্ট (৩৯ টাকা)। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে একটি টি-শার্ট নিতে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের গড়ে ৫৯ সেন্ট (৭২ টাকা) শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের কারণে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র পাকিস্তানকেই কিছুটা কম শুল্ক দিতে হবে। অন্যান্য প্রতিযোগী দেশগুলোর জন্য শুল্কহার বাংলাদেশের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে ভারত থেকে একটি টি-শার্ট নিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের মোট শুল্ক দিতে হবে ১ ডলার ২৫ সেন্ট। ভিয়েতনামের প্রতিটি টি-শার্টে গড়ে শুল্ক দিতে হবে ৯৮ সেন্ট। ইন্দোনেশিয়ার প্রতিটি টি-শার্টে গড়ে শুল্ক ৯০ সেন্ট, কম্বোডিয়ার ৮৯ সেন্ট এবং পাকিস্তানের টি-শার্টে ৫২ সেন্ট শুল্ক দিতে হবে। এছাড়া ২০২০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে সাড়ে ৭ শতাংশ বাড়তি শুল্ক দিয়ে আসছিল চীন। শিগগিরই দেশটির ওপর চূড়ান্ত পাল্টা শুল্কহার ঘোষণা করার কথা যুক্তরাষ্ট্রের। তবে বর্তমানে পাল্টা শুল্ক ৩০ শতাংশ ধরে নিলে চীনের প্রতিটি টি-শার্ট যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিতে শুল্ক দিতে হবে ৮২ সেন্ট।