Hi

০২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। “নো কিংস” নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এটি মূলত ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ট্রাম্পের বিরল সামরিক কুচকাওয়াজের প্রতিবাদে আয়োজিত হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় এই সামরিক কুচকাওয়াজটি আয়োজন করা হয় ট্রাম্পের জন্মদিন ও মার্কিন সেনাবাহিনীর ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে। তবে অনুষ্ঠান ঘিরে যেকোনো প্রতিবাদে “কঠোর প্রতিরোধ” গড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে রাজধানীতে সেনাবাহিনীর মহড়া, আরেকদিকে দেশের ভেতরে সেনা দিয়ে বিক্ষোভ দমন—এই দুই চিত্রে সাংঘর্ষিক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।

আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বহু শহরে কয়েক লাখ মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
সংগঠনটির নাম “নো কিংস” (No Kings)— অর্থাৎ “কোনো রাজা নয়”। আন্দোলনকারীরা বলেন, ট্রাম্পের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণই এই নামকরণের পেছনের কারণ।

নিউ ইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া এবং হিউস্টনের মতো শহরগুলোতে বিক্ষোভ ছিল সবচেয়ে ঘন ও সংগঠিত।
আইনপ্রণেতা, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ও অধিকারকর্মীরা সেখানে বক্তব্য রাখেন।
আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল আমেরিকার পতাকা ও ট্রাম্পবিরোধী প্ল্যাকার্ড।

ফিলাডেলফিয়ার লাভ পার্কে এক সমাবেশে ৬১ বছর বয়সী নার্স কারেন ভ্যান ত্রিয়েস্তে বলেন—

“আমাদের গণতন্ত্র রক্ষা করা এখন জরুরি।”

তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে জনস্বাস্থ্য খাতে জনবল ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানান।

লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভ ছিল সবচেয়ে বড় ও উত্তেজনাপূর্ণ।
অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদে কয়েকদিন ধরেই চলছিল বিক্ষোভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেন, যদিও ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসোম এর বিরোধিতা করেন।

ফেডারেল বিল্ডিংয়ের সামনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে জাতীয় রক্ষীবাহিনীর সংঘর্ষ হয়।
কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।

‘ব্রাউন বেরেটস’ নামের এক নাগরিক অধিকার সংগঠনের সদস্য হোসে অ্যাজেতক্লা বলেন—

“এটা শুধু কঠোর নয়, এটা নিষ্ঠুর। পরিবারগুলোকে আলাদা করা যায় না।”

বিক্ষোভ জোরালো হলেও জনমত বিভক্ত।
সিবিএস/ইউগভ পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়:

৫৪% আমেরিকান ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসীবিরোধী নীতিকে সমর্থন করেন

৪৬% এর বিরোধিতা করেন

৪২% নাগরিক মনে করেন, এই নীতির ফলে তারা আরও নিরাপদ

৫৩% বলেন, ট্রাম্প মূলত বিপজ্জনক অপরাধীদের লক্ষ্য করছেন

ওয়াশিংটনের কুচকাওয়াজে অংশ নেয় হাজারো সেনাসদস্য, ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং ব্যান্ড দল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাঁড়িয়ে থেকে কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন এবং স্যালুট জানান।
তিনি বলেন—
“আমাদের সৈনিকরা কখনও হার মানে না, কখনও আত্মসমর্পণ করে না, তারা লড়াই করে, জয় ছিনিয়ে আনে।”

অনেক সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এই আয়োজনকে ট্রাম্পের “দামি ইগো প্রজেক্ট” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সেনাবাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, এই প্যারেডে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ডলার।

ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশ নেওয়া মেলভিন গ্রেভস বলেন—

“যুদ্ধ শেষে দেশে ফিরে কোনো সংবর্ধনা পাইনি। এই কুচকাওয়াজই সেই শূন্যতা কিছুটা পূরণ করল।”
তবে তিনি স্বীকার করেন, এতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও ছিল।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক বারবারা স্টার বলেন—

“অভিবাসন বিতর্কে বিভাজনের এই সময়ে এমন প্যারেড এক অস্বস্তিকর বার্তা দেয়, যা হয়তো সেনাবাহিনী পরিকল্পনা করেনি।”

মিনেসোটায় “নো কিংস” আন্দোলনের কিছু কর্মসূচি বাতিল করা হয়।
কারণ, সেখানে এক নারী রাজনীতিক ও তাঁর স্বামীকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তির গাড়িতে “নো কিংস” আন্দোলনের ফ্লায়ার পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় গভর্নর টিম ওয়ালজ বিক্ষোভ স্থগিত রাখার আহ্বান জানালেও, হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে শেয়ার করুন

মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ই-মেইল সহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সংরক্ষণ করা হবে।

আপডেট : ০৮:২৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫
১৮৩ দেখা
© সর্বস্বত স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © Jonogoner Khobor - জনগণের খবর
                                  কারিগরি সহযোগিতায়ঃ মো. সাইফুল ইসলাম                                  

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ

আপডেট : ০৮:২৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। “নো কিংস” নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এটি মূলত ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ট্রাম্পের বিরল সামরিক কুচকাওয়াজের প্রতিবাদে আয়োজিত হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় এই সামরিক কুচকাওয়াজটি আয়োজন করা হয় ট্রাম্পের জন্মদিন ও মার্কিন সেনাবাহিনীর ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে। তবে অনুষ্ঠান ঘিরে যেকোনো প্রতিবাদে “কঠোর প্রতিরোধ” গড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে রাজধানীতে সেনাবাহিনীর মহড়া, আরেকদিকে দেশের ভেতরে সেনা দিয়ে বিক্ষোভ দমন—এই দুই চিত্রে সাংঘর্ষিক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।

আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বহু শহরে কয়েক লাখ মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
সংগঠনটির নাম “নো কিংস” (No Kings)— অর্থাৎ “কোনো রাজা নয়”। আন্দোলনকারীরা বলেন, ট্রাম্পের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণই এই নামকরণের পেছনের কারণ।

নিউ ইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া এবং হিউস্টনের মতো শহরগুলোতে বিক্ষোভ ছিল সবচেয়ে ঘন ও সংগঠিত।
আইনপ্রণেতা, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ও অধিকারকর্মীরা সেখানে বক্তব্য রাখেন।
আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল আমেরিকার পতাকা ও ট্রাম্পবিরোধী প্ল্যাকার্ড।

ফিলাডেলফিয়ার লাভ পার্কে এক সমাবেশে ৬১ বছর বয়সী নার্স কারেন ভ্যান ত্রিয়েস্তে বলেন—

“আমাদের গণতন্ত্র রক্ষা করা এখন জরুরি।”

তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে জনস্বাস্থ্য খাতে জনবল ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানান।

লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভ ছিল সবচেয়ে বড় ও উত্তেজনাপূর্ণ।
অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদে কয়েকদিন ধরেই চলছিল বিক্ষোভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেন, যদিও ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসোম এর বিরোধিতা করেন।

ফেডারেল বিল্ডিংয়ের সামনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে জাতীয় রক্ষীবাহিনীর সংঘর্ষ হয়।
কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।

‘ব্রাউন বেরেটস’ নামের এক নাগরিক অধিকার সংগঠনের সদস্য হোসে অ্যাজেতক্লা বলেন—

“এটা শুধু কঠোর নয়, এটা নিষ্ঠুর। পরিবারগুলোকে আলাদা করা যায় না।”

বিক্ষোভ জোরালো হলেও জনমত বিভক্ত।
সিবিএস/ইউগভ পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়:

৫৪% আমেরিকান ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসীবিরোধী নীতিকে সমর্থন করেন

৪৬% এর বিরোধিতা করেন

৪২% নাগরিক মনে করেন, এই নীতির ফলে তারা আরও নিরাপদ

৫৩% বলেন, ট্রাম্প মূলত বিপজ্জনক অপরাধীদের লক্ষ্য করছেন

ওয়াশিংটনের কুচকাওয়াজে অংশ নেয় হাজারো সেনাসদস্য, ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং ব্যান্ড দল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাঁড়িয়ে থেকে কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন এবং স্যালুট জানান।
তিনি বলেন—
“আমাদের সৈনিকরা কখনও হার মানে না, কখনও আত্মসমর্পণ করে না, তারা লড়াই করে, জয় ছিনিয়ে আনে।”

অনেক সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এই আয়োজনকে ট্রাম্পের “দামি ইগো প্রজেক্ট” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সেনাবাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, এই প্যারেডে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ডলার।

ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশ নেওয়া মেলভিন গ্রেভস বলেন—

“যুদ্ধ শেষে দেশে ফিরে কোনো সংবর্ধনা পাইনি। এই কুচকাওয়াজই সেই শূন্যতা কিছুটা পূরণ করল।”
তবে তিনি স্বীকার করেন, এতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও ছিল।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক বারবারা স্টার বলেন—

“অভিবাসন বিতর্কে বিভাজনের এই সময়ে এমন প্যারেড এক অস্বস্তিকর বার্তা দেয়, যা হয়তো সেনাবাহিনী পরিকল্পনা করেনি।”

মিনেসোটায় “নো কিংস” আন্দোলনের কিছু কর্মসূচি বাতিল করা হয়।
কারণ, সেখানে এক নারী রাজনীতিক ও তাঁর স্বামীকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তির গাড়িতে “নো কিংস” আন্দোলনের ফ্লায়ার পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় গভর্নর টিম ওয়ালজ বিক্ষোভ স্থগিত রাখার আহ্বান জানালেও, হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।