Hi

০২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারী ফুটবলে স্বপ্ন ছোঁয়ানোর পথে কলসিন্দুরের পাশে আইএফআইসি ব্যাংক

ময়মনসিংহ ব্যুরো

 

নারী ফুটবলের মানচিত্রে এক উজ্জ্বল নাম ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর। সেই প্রত্যন্ত গ্রামেই গড়ে ওঠা কলসিন্দুর ফুটবল একাডেমির পাশে এবার দাঁড়াল প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি।

বুধবার (১৮ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে আইএফআইসি ব্যাংকের ময়মনসিংহ প্রধান কার্যালয়ে এই দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। নারী ক্রীড়ায় দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে চলা এই একাডেমির পাশে দাঁড়ানোকে ব্যাংকটি দেখছে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ হিসেবে।

আইএফআইসি ব্যাংকের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব ব্রাঞ্চ বিজনেস মো. রফিকুল ইসলাম। একাডেমির পক্ষে চুক্তিতে সই করেন সভাপতি মালা রাণী সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক ও কোচ জুয়েল মিয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন ব্যাংকের সেন্ট্রালাইজড রিটেইল মার্কেটিং বিভাগের প্রধান ফারিহা হায়দার।

কলসিন্দুর গ্রাম থেকে উঠে আসা ৯ জন মেয়ে খেলেছেন জাতীয় নারী ফুটবল দলে। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এই একাডেমি থেকেই খেলেছেন ৬ জন খেলোয়াড়।

চুক্তির আওতায় একাডেমির মেয়েরা এবার পাবেন নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার ও অবকাঠামোগত সহায়তা। এর আগেও, ২০২৪ সালের অক্টোবরে, কলসিন্দুর সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে মেয়েদের হাতে ফুটবল, জুতা, জার্সি ও অন্যান্য সরঞ্জাম তুলে দিয়েছিল আইএফআইসি ব্যাংক।

অনুষ্ঠানে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব ব্রাঞ্চ বিজনেস রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই মেয়েরা কেবল খেলোয়াড় নয়, তারা আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের পাশে দাঁড়ানো মানে জাতির ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করা।”

একাডেমির সভাপতি মালা রাণী সরকারের ভাষ্য, “আইএফআইসি ব্যাংকের এই সহায়তা আমাদের মেয়েদের মনোবল বাড়াবে। তারা এখন আরও বড় স্বপ্ন দেখতে পারবে।”

ফুটবল দলের পৃষ্ঠপোষক রাজিয়া সামাদ ডালিয়া বলেন, ধোবাউড়া উপজেলা একটি অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উপজেলা। আর এখান থেকে প্রতিবছর খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে যাঁরা আমাদের দেশের সম্মান বিশ্ব দরবারে বৃদ্ধি করছে, আমাদের উচিত এই তরুণ ফুটবলারদের পাশে দাঁড়ানো।

এই সমঝোতা চুক্তি শুধু কাগুজে নয়, এর মধ্য দিয়ে নারীর ক্ষমতায়নে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। খেলাধুলা, শিক্ষা বা উদ্যোগ—সব ক্ষেত্রেই নারীর সম্ভাবনা জাতিকে এগিয়ে নিতে পারে, এমন বিশ্বাস থেকেই এই পদক্ষেপ আইএফআইসি ব্যাংকের জানান সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে শেয়ার করুন

মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ই-মেইল সহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সংরক্ষণ করা হবে।

আপডেট : ০১:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
১৭৬ দেখা
© সর্বস্বত স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © Jonogoner Khobor - জনগণের খবর
                                  কারিগরি সহযোগিতায়ঃ মো. সাইফুল ইসলাম                                  

নারী ফুটবলে স্বপ্ন ছোঁয়ানোর পথে কলসিন্দুরের পাশে আইএফআইসি ব্যাংক

আপডেট : ০১:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

 

নারী ফুটবলের মানচিত্রে এক উজ্জ্বল নাম ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর। সেই প্রত্যন্ত গ্রামেই গড়ে ওঠা কলসিন্দুর ফুটবল একাডেমির পাশে এবার দাঁড়াল প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি।

বুধবার (১৮ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে আইএফআইসি ব্যাংকের ময়মনসিংহ প্রধান কার্যালয়ে এই দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। নারী ক্রীড়ায় দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে চলা এই একাডেমির পাশে দাঁড়ানোকে ব্যাংকটি দেখছে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ হিসেবে।

আইএফআইসি ব্যাংকের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব ব্রাঞ্চ বিজনেস মো. রফিকুল ইসলাম। একাডেমির পক্ষে চুক্তিতে সই করেন সভাপতি মালা রাণী সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক ও কোচ জুয়েল মিয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন ব্যাংকের সেন্ট্রালাইজড রিটেইল মার্কেটিং বিভাগের প্রধান ফারিহা হায়দার।

কলসিন্দুর গ্রাম থেকে উঠে আসা ৯ জন মেয়ে খেলেছেন জাতীয় নারী ফুটবল দলে। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এই একাডেমি থেকেই খেলেছেন ৬ জন খেলোয়াড়।

চুক্তির আওতায় একাডেমির মেয়েরা এবার পাবেন নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার ও অবকাঠামোগত সহায়তা। এর আগেও, ২০২৪ সালের অক্টোবরে, কলসিন্দুর সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে মেয়েদের হাতে ফুটবল, জুতা, জার্সি ও অন্যান্য সরঞ্জাম তুলে দিয়েছিল আইএফআইসি ব্যাংক।

অনুষ্ঠানে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব ব্রাঞ্চ বিজনেস রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই মেয়েরা কেবল খেলোয়াড় নয়, তারা আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের পাশে দাঁড়ানো মানে জাতির ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করা।”

একাডেমির সভাপতি মালা রাণী সরকারের ভাষ্য, “আইএফআইসি ব্যাংকের এই সহায়তা আমাদের মেয়েদের মনোবল বাড়াবে। তারা এখন আরও বড় স্বপ্ন দেখতে পারবে।”

ফুটবল দলের পৃষ্ঠপোষক রাজিয়া সামাদ ডালিয়া বলেন, ধোবাউড়া উপজেলা একটি অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উপজেলা। আর এখান থেকে প্রতিবছর খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে যাঁরা আমাদের দেশের সম্মান বিশ্ব দরবারে বৃদ্ধি করছে, আমাদের উচিত এই তরুণ ফুটবলারদের পাশে দাঁড়ানো।

এই সমঝোতা চুক্তি শুধু কাগুজে নয়, এর মধ্য দিয়ে নারীর ক্ষমতায়নে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। খেলাধুলা, শিক্ষা বা উদ্যোগ—সব ক্ষেত্রেই নারীর সম্ভাবনা জাতিকে এগিয়ে নিতে পারে, এমন বিশ্বাস থেকেই এই পদক্ষেপ আইএফআইসি ব্যাংকের জানান সংশ্লিষ্টরা।