অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা

লর্ডসে হওয়া টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা।
ফাইনালের প্রথম দিনে টস জিতে বোলিং নিয়েছিল প্রোটিয়ারা। ম্যাচ শেষে অন্তত এটা স্পষ্টভাবেই বলা যায়, ওই টস জয়ই দক্ষিণ আফ্রিকার অর্ধেক কাজটা করে দিয়েছিল। কারণ দ্বিতীয় দিনের পর ব্যাটিং সহজ হয়ে যাওয়ার তার পুরো সুবিধাটাই পেয়েছেন এইডেন মার্করাম- টেম্বা বাভুমারা।
ম্যাচের শেষদিকে পিচ ব্যাটিং সহায়ক হয়ে যাওয়া মিচাল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স এবং জশ হ্যাজেলউডদের মতো বোলাররা কোনো সুইং পাচ্ছিলেন না। অভিজ্ঞ নাথান লায়ন বল স্পিন করাতে পারলেও ভাঙতে পারেননি মোকামদের প্রতিরোধ। তাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও ২৮১ রান ডিফেন্ড করতে পারেনি অজিরা। চতুর্থ ইনিংসে ২৮২ রান তাড়া করে ৫ উইকেটের জয় ছিনিয়ে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
আফ্রিকার বিশ্বজয়ের বড় নায়ক মার্করাম। ২০৭ বলে ১৩৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তবে জয় থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থাকতে আউট হন প্রোটিয়া এই ব্যাটার। তবে ততক্ষণে জয়টা নিজেদের ঝুলিতে নিয়ে ফেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রোটিয়া অধিনায়ক বাভুমা ১৩৪ বলে ৬৬ রানের হার না মানা এক ইনিংস খেলেছেন। ৫ ঘণ্টারও অধিক সময় উইকেটে ছিলেন বাভুমা। প্রথম ইনিংসেও তার ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান। দুই ইনিংসে ব্যাট হাতে দারুণ প্রতিরোধ দেখিয়েছেন ডেভিড বেন্ডিংহাম। প্রথম ইনিংসে ৪৫ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।
জয়ের আরেক বড় তারকা কাগিসো রাবাদা। দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনি নিয়েছেন ৯ উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন মার্কো জেনসেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট গেছে লুঙ্গি এনগিডির ঝুলিতে।
টস জিতে বোলিং নিয়ে প্রথম ঘণ্টায়ই অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাকফুটে ফেলে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। জেনসেন-রাবাদার তোপে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৭ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় অজিরা। মার্নাস লাবুশেন ও উসমান খাজার উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন রাবাদা। প্রথম স্লিপে আদায় করে নেন খাজার উইকেট। দ্বিতীয় উইকেটের জন্য রাবাদাকে খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ওই ওভারেই তুলে নেন ক্যামেরন গ্রিনকে। গ্রিন ক্যাচ দেন স্লিপে দাঁড়ানো এইডেন মারক্রামকে।
লাবুশেনও ইনিংস বড় করতে পারেননি। উইকেটরক্ষক কাইলে ভেরাইনের গ্লাভসে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন জেনসেন। গত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের নায়ক ট্রাভিস হেড ফেরেন মাত্র ১১ রানে।
অভিজ্ঞ স্টিভ স্মিথ এবং বেউ ওয়েবস্টারের ব্যাটে শুরুর ৪ উইকেটের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। পঞ্চম উইকেটে ৭৯ রান তোলে এই জুটি। ৬৬ রান করেন স্মিথ। ওয়েবস্টারও পান ফিফটির দেখা। মাত্র ২০ রানের ব্যবধানে শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসে ২১২ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।
তবে এই ২১২ রান নিয়েও প্রথম ইনিংসে লিড পায় অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দিনের শেষভাগে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার মতো শুরুতেই চাপে পড়ে প্রোটিয়ারাও। ৩০ রানে প্রথম ৪ উইকেট হারায় দলটি। দলের খাতায় কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই স্টার্কের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেছিলেন এইডেন মার্করাম। রায়ান রিকেলটন ১৬, উইন মুল্ডার ৬ আর ত্রিস্তান স্টাবস ২ রান করে আউট হন।
৪ উইকেট হারানোর পর ডেভিড বেন্ডিংহামকে নিয়ে হাল ধরেন বাভুমা। তবে তাদের ৬৪ রানের জুটি ভাঙেন কামিন্স। ৮৪ বলে ৩৬ রান করে বিদায় নেন প্রোটিয়া অধিনায়ক। এরপর কাইল ভেরেন্নে (১৩) ও ইয়ানসেনকেও (০) ক্রিজে স্থায়ী হতে দেননি কামিন্স। একপ্রান্ত আগলে রাখা বেডিংহ্যাম দলীয় ১৩৫ রানে বিদায় নেন। তার বিদায়ের পর দলের খাতায় আর মাত্র ৩ রান যোগ করতে পারেন বাকিরা। প্রথম ইনিংসে ১৩৮ রানে অলআউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
২১২ রান করেও প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে লিড এনে দেওয়ার নায়ক ছিলেন কামিন্স। অজি অধিনায়ক ওই ইনিংসে ২৮ রান দিয়ে নেন ৬ উইকেট। ২ উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক।







