,
বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:২২ অপরাহ্ন

হিজাব পরার বিধান কী?

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ২০ Time View

ইসলাম ডেস্ক: নারীর হিজাব পরা কি স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ নাকি অন্যের লোলুপ দৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করে তার পবিত্রতা ও সৌন্দর্যকে নিরাপদ রাখা? হিজাবের মূল উদ্দেশ্য কোনটি? তাহলে নারীরা কেন হিজাব পরবে? হিজাব পরার বিধানই বা কী?

হিজাব মহান আল্লাহ তাআলার নির্দেশ এবং নারী জাতির নিরাপত্তা ও মর্যাদার অন্যতম প্রতীক। ইসলামি শরিয়তও নারীর হিজাবের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। নারীর ইজ্জত-আব্রু হেফাজতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে হিজাব। নারীর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব এতে সমুন্নত এবং সুউচ্চ হয়।

হিজাব বা পর্দার বিধান দেওয়ার উদ্দেশ্য কী?
নারীর চলাফেরা, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং রূপ-সৌন্দর্য প্রকাশের ক্ষেত্রে যে সব শর্তারোপ করা হয়েছে তা শুধু তাকে সংরক্ষণ করার জন্যই। চলাফেরা, পোশাক-পরিচ্ছদ কিংবা সৌন্দর্যের প্রকাশের কারণে যে বিপর্যয় বা ক্ষতি হতে পারে তার সেসব পথ বন্ধ করার জন্যই হিজাব বা পর্দার বিধান দেওয়া হয়েছে। এটা নারীর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হবে এ জন্য নয় বরং নারীকে অন্যের লোলুপ দৃষ্টির ছোবল থেকে রক্ষা করা এবং তার পবিত্রতা ও সৌন্দর্যের মানকে সংরক্ষিত করাই হিজাব বা পর্দার বিধান দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য।

হিজাব বা পর্দার মর্যাদা

হিজাব বা পর্দা মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের নির্দেশ। এ নির্দেশ মেনে চলা প্রত্যেক নারী-পুরুষের জন্য ফরজ। শুধু পর্দা নয়, আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের সব নির্দেশ মেনে চলা প্রত্যেক নারী-পুরুষের জন্যই ফরজ। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল কোনো আদেশ করলে কোনো ইমানদার পুরুষ ও ইমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করার কোনো অধিকার নেই। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আদেশ অমান্য করবে, সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হবে।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৩৬)

পর্দার বিধান সম্পর্কে আল্লাহর নির্দেশ-

১. ‘ইমানদার নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। তারা যেন সাধারণত: প্রকাশমান স্থান ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে।’ (সুরা নুর : আয়াত ৩১)

২. ‘তোমরা ঘরের ভেতরে অবস্থান করবে; মূর্খতা যুগের অনুরূপ (বেপর্দা হয়ে) নিজেদের প্রদর্শন করবে না।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৩৩)

৩. ‘তোমরা তাঁর স্ত্রীগণের কাছ থেকে কোনো কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের জন্য এবং তাঁদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৫৩)

৪. ‘হে নবি! আপনি আপনার স্ত্রী ও কন্যাদের এবং মুমিনদের স্ত্রীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়।।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৫৯)

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে ঘোষণা দেন- ‘নারী হচ্ছে গোপন বস্তু।’ (তিরমিজি)

হিজাব বা পর্দা নারীর পবিত্রতা
হিজাব বা পর্দা পরা নারীরা খোলামেলা চলাফেরা করা নারীদের থেকে অনেক বেশি নিরাপদ। এতে নারীরা অন্যের দ্বারা হয়রানির শিকার থেকেও মুক্তি পায়। কোরআনে বিষয়টি এভাবে ওঠে এসেছে-

‘হে নবি! আপনি আপনার স্ত্রী ও কন্যাদের এবং মুমিনদের স্ত্রীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না।’ (সুরা আহজাব : ৫৯)

নারী পর্দা বা হিজাবে নিজেকে ঢেকে রাখবে। এতে সে পূত-পবিত্রা ও সংরক্ষিতা থাকবে, হিজাব বা পর্দার পরার কারণেই তাকে কষ্ট দেওয়া হবে না; ফাসেক বা খারাপ লোকেরা তাকে উত্যক্ত করতে সুযোগ পাবে না। এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, নারীর সৌন্দর্য অপরের কাছে প্রকাশ হলেই তাকে কষ্ট, ফিতনা ও অকল্যাণের সম্মুখীন হতে হয়।

হিজাব বা পর্দার নির্মলতা

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা নবির ঘরসমূহে প্রবেশ করো না; অবশ্য যদি তোমাদের খাবারের অনুমতি দেয়া হয় তাহলে (প্রবেশ কর) খাবারের প্রস্ত্ততির জন্য অপেক্ষা না করে। আর যখন তোমাদের ডাকা হবে তখন তোমরা প্রবেশ কর এবং খাবার শেষ হলে চলে যাও আর কথাবার্তায় লিপ্ত হয়ো না; কারণ তা নবিকে কষ্ট দেয়; সে তোমাদের বিষয়ে সঙ্কোচ বোধ করে; কিন্তু আল্লাহ সত্য প্রকাশে সঙ্কোচ বোধ করেন না। আর যখন নবিপত্নীদের কাছে তোমরা কোন সামগ্রী চাইবে তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে; এটি তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র। আর আল্লাহর রাসুলকে কষ্ট দেয়া এবং তার (মৃত্যুর) পর তার স্ত্রীদের বিয়ে করা কখনো তোমাদের জন্য সঙ্গত নয়। নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর কাছে গুরুতর পাপ।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৫৩)

পর্দা শুধু নারীর জন্য আবশ্যক এমনটি নয়; বরং পর্দার বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সমান। এ আয়াতে পর্দাকে মুমিন নারী-পুরুষের হৃদয়ের পবিত্রতার কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা চোখ যখন দেখে; হৃদয় তখন তা কামনা করে। আর এজন্যই দৃষ্টিপাত না করাটা হৃদয়ের পরিশুদ্ধতার কারণ এবং ফেতনা থেকে বেঁচে থাকার সুস্পষ্ট মাধ্যম।

আবার পর্দা বা হিজাব দুর্বল অন্তরের মানুষদের কু প্রবৃত্তিকে বিনষ্ট করে দেয়। কোরআনের আয়াতে তা প্রমাণিত। এ জন্য নারীরা পরপুরুষের সঙ্গে কখনো নম্র ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘হে নবী-পত্নিগণ, তোমরা অন্য কোনো নারীর মতো নও। যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে (পরপুরুষের সঙ্গে) কোমল কণ্ঠে কথা বলো না, তাহলে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা ন্যায়সঙ্গত কথা বলবে।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৩২)

হিজাব বা পর্দার নারীর আবরণ

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা লজ্জাশীল গোপনকারী। তিনি লজ্জা ও গোপনীয়তা পছন্দ করেন।’ নবিজী আরও বলেছেন, ‘যে নারী নিজ ঘর ছাড়া অন্যের ঘরে গিয়ে স্বীয় পোষক খুলবে; আল্লাহ তার থেকে পর্দা ছিঁড়ে ফেলবেন।’

হিজাব বা পর্দা হলো ঈমান

আল্লাহ তাআলা শুধুমাত্র ঈমানদার নারীদের উদ্দেশ্যে করেই পর্দা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ঈমানদার ছাড়া অন্য কাউকে পর্দার নির্দেশ দেননি। এ জন্যই আল্লাহ তাআলা এ মর্মে নির্দেশ দিয়েছেন- (হে রাসুল!) আপনি মুমিন নারীদের বলুন!…।

হাদিসে পাকে এসেছে, একবার বনি তামিম গোত্রের কিছু নারী উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে আগমন করেন, (তখন) তাদের পরনে ছিল পাতলা পোশাক। তিনি বললেন, ‘তোমরা যদি মুমেনা হয়ে থাক, তবে এটা ইম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Jonogonerkhobor - জনগণের খবর পোর্টালের প্রয়োজনীয় লিংকসমূহ :

About Us

Contact Us

Privacy Policy

Disclaimer

Terms and Conditions

© All rights reserved © 2022 Jonogoner Khobor - জনগণের খবর
Design & Developed by: Sheikh IT
sheikhit
error: Content is protected !!