,
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৫৯ অপরাহ্ন

পাটখড়িতে বাড়তি আয়, স্বাবলম্বী হচ্ছে চরের কৃষকরা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ৬২ Time View

ফয়সাল রহমান জনি: গ্রামীণ জীবনে চুলা জ্বালিয়ে রান্নার এখনো অন্যতম উৎস এই পাটখড়ি। একসময় জ্বালানি হিসেবে পাটখড়ির বহুল ব্যবহার হলেও আধুনিক জীবনে জ্বালানি হিসেবে কমে এসেছে এর ব্যবহার। এখন বহুমুখী ব্যবহারে পাটখড়ির যেমন চাহিদা বাড়ছে তেমনি ভালো দাম পেয়ে খুশি পাট চাষিরা।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র মতে, চলতি বছর জেলায় ১৫ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বতর্মানে এক বিঘা জমি থেকে উৎপাদিত পাটের যে দাম পাওয়া যায়, পাটখড়ি বিক্রি করে প্রায় একই সমান দাম পাওয়া যায়। চারিপাশে নদী থাকায় পাট জাগ দেওয়া নিয়েও সমস্যায় পড়তে হচ্ছেনা তাদের। বেশ কয়েক বছর থেকে পাটচাষ করে লাভবান হওয়ায় এই অঞ্চলে আগের তুলনায় পাটচাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা নিজেরাই নিজেদের উৎপাদিত পাট কেউ নদীতে, কেউ বাড়ির পাশের ডোবায় পাট কেটে জাগ দিয়ে রেখেছেন। কেউ আবার সেগুলো থেকে পাটখড়ি বের করে শুকনো জমিতে দ্বারা করে রেখে রোদে শুকাচ্ছেন। যতদুর চোখ যায়, শুধু পাট আর পাটখড়ি সংরক্ষণ করার ছবি চোখে পড়ে। কোমর পানিতে ডুবে পাটখড়ি থেকে আঁশ ছাড়িয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা। তাদের অনেকেই রাস্তার পাশে, মাঠে অথবা উম্মুক্ত স্থানে বাঁশ গেড়ে সেখানে দড়ি বেঁধে পাটের আঁশ রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। ভালোভাবে শুকানো হলে সেগুলো বাড়িতে যত্নসহকারে সংরক্ষণ করছেন। শুকনো পাটখড়ি মাথায় করে এনে নৌকায় তুলে কৃষকরা হাটে নিয়ে যাচ্ছেন বিক্রি করতে।

ফুলছড়ি ইউনিয়নের খঞ্চাপাড়া গ্রামের কৃষক
হবিবর মিয়া। মাথায় করে পাটখড়ি নিয়ে যাচ্ছেন ফুলছড়ি হাটে। সেখানেই রাইজিং বিডির সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ প্রতিবেদককে তিনি জানান, ১’শ পাটখড়ি দিয়ে একটি মোটা হয়। প্রতিটি মোটা (আঁটি) ১২ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করেন। মাথায় ৮৫টি মোটা আছে। বিক্রি করলে হাজার খানেক টাকা পাওয়া যাবে। সেই টাকায় মাছ, তেল, লবণসহ আনুসাঙ্গিক খরচ নিয়ে বাড়ি ফিরবেন’।

খঞ্চাপাড়া গ্রামের আরেক কৃষক নুর ইসলাম। তিনি জানান, ‘এ বছর আট বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। আট বিঘা জমি থেকে তিনি ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকার শুধু পাটখড়ি বিক্রি করার আশা করছেন। আর পাট থেকে লক্ষাধিক টাকা আয় করার আশা করছেন তিনি।

খঞ্চাপাড়া গ্রাম থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের আরেক চর টেংরাকান্দি। সেখানকার ষাটোর্ধ কৃষক আইজল মিয়া। রাইজিং বিডিকে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ জ্বালানি ছাড়াও পাটখড়ি দিয়ে ঘরের বেড়া, ছাউনি দেন। জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধিতেও পাটচাষ ভালো ভূমিকা রাখে। পাটখড়ির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তবে, এই পাটখড়ি নিজ এলাকার বাহিরে ঢাকাসহ বিভাগীয় অঞ্চলের ব্যাপারিদের কাছে সরাসরি বিক্রি করতে পারলে আরও ভালো দাম পাওয়া যেত বলেও তিনি জানান।

পার্শ্ববর্তী সরদারের চরের গাবগাছি গ্রামের কৃষক খাজা মিয়া ও সাইফুল ইসলাম। তারা জানান, ‘এক বিঘা জমির পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটখড়ি বিক্রি হয়ে থাকে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকায়। পাটখড়ির বহুমুখী ব্যবহারের কারণে এবার শুধু ফুলছড়ি থেকেই লক্ষ লক্ষ টাকার পাটখড়ি বিক্রি হবে দেশের বিভিন্ন জায়গায়।

ফুলছড়ি হাটের কয়েকজন পাটখড়ি ব্যবসায়ীর সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। রাইজিং বিডিকে তারা বলেন, ‘সারা দেশেই এখানকার পাটখড়ির চাহিদা রয়েছে। এক বিঘা জমির পাটখড়ি মানভেদে তারা ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে কেনেন। পরে সেগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খোরশেদ আলম রাইজিং বিডিকে বলেন, ‘কৃষকরা পাট বিক্রি করে একদিকে যেমন লাভবান হচ্ছে, অন্যদিকে পাটখড়ি বিক্রি করে আরও অতিরিক্ত অর্থ পাচ্ছেন। এতে তারা উভয় দিক থেকে লাভবান হচ্ছেন। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকরা দিন দিন পাট চাষে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে পারলে কৃষকরা ভবিষ্যতে আরও বেশি লাভবান হবেন’।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরও খবর পড়ুন:

Jonogoner Khobor - জনগণের খবর পোর্টালের গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:

 আমাদের পরিবার

About Us

Contact Us

Disclaimer

Privacy Policy

Terms and Conditions

Design & Developed by: Sheikh IT
sheikhit

জনগণের খবর পোর্টালের কোনো প্রকার নিউজ, ছবি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত অন্য কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। ধন্যবাদ।