,
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৫৮ অপরাহ্ন

কৃষি জমিকে চার ফসলিতে রুপান্তরের উদ্যেগ, মিটবে ভোজ্য তেলের চাহিদা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ২৮০ Time View

ফয়সাল রহমান জনি: গাইবাব্ধায় ভোজ্য তেলের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আমন ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি, দুই ফসলি জমিকে চার ফসলি জমিতে রুপান্তর করতে কৃষকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে একটি মত বিনিময় কর্মসূচী পালন করেছে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকালে সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের বটতলা নামক স্থানে স্থানীয় কৃষকদের সহ্যোগিতায় আমনের অগ্রিম ফসল ব্রি-৭৫ ধান কাটার মধ্য দিয়ে কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। এসময় ছোট ছোট হলুদ শাড়ি ও মাথায় ফুলের মালা পড়ে শিশুদের উপস্থিতি, জমির ধানকাটা কর্মসূচীকে এক অন্যরকম উৎসবে পরিণত করে তোলে। পরে মতবিনিময় সভায় জমির কৃষক, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ হোসেন।

মত বিনিময় সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গগণ তাদের মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘প্রতি বিঘা জমি থেকে বছরে শুধু দু’বার ফসল ফলানোর ফলে ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে৷ তাই একটি জমিকে কিভাবে আরও বেশি ব্যবহার করা যায়, আমাদেরকে তা জানতে হবে। অগ্রিম আমন ধান ব্রি-৭৫ রোপণ করে দ্রুত ফসল ঘরে তুলে সরিষার ফলন করলে বেশি লাভবান হবে কৃষক। এরই মধ্যে সময় বের করে নিয়ে বিভিন্ন শাখ-সবজিও চাষাবাদ করা সম্ভব। সরিষা এবং সূর্যমূখী চাষ করলে স্থানীয় খাবার তেলের চাহিদা মিটবে। নদী ভাঙ্গন কবলিত জেলা হওয়ায় এখানে প্রতি বছর বহু আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে আবাদি জমির পরিমাণ দিন দিন কমছে। তাই, প্রতিটি আবাদযোগ্য জমিকে সময় বিন্যাস করে তিন-চারটি ফসল উৎপাদন করতে হবে। এসময় উক্ত কর্মসূচী বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে প্রায় সাত একর জমিকে আওতাভুক্ত করা হয়। প্রতিটি জমির মালিক এই উদ্যেগকে সাধুবাদ জানান।

সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন জানান, ‘মূলত, দুটি উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। প্রথমত, এক ফসলি কৃষি জমিকে পর্যায়ক্রমে চার ফসলি জমিতে রুপান্তর, দ্বিতীয়ত, সরিষা এবং সুর্যমূখীর চাষ বৃদ্ধি করে স্থানীয় ভোজ্য তেলের চাহিদার অন্তত ৪০ শতাংশ পূরণ করা’।

তিনি আরও জানান, ‘জমি ভেদে সঠিক সময় বিন্যাস করা গেলে একটি জমিতে বছরে চারবার ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। ভোজ্য তেলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য চলমান একটি প্রকল্পের আওতায় এই কর্মসূচী চলমান রয়েছে। এ জন্য আমরা এসব পণ্যের বীজ এবং সার প্রণোদনা হিসেবে দিচ্ছি। এছাড়া ব্রী-৭৫, ৭১ এই জাতের আমন ধান চাষাবাদের মেয়াদকাল ১১০ দিন। স্বল্প মেয়াদি হওয়ার পাশাপাশি এই জাতে ফলনও বেশি হয়। গাইবান্ধায় আমনের আবাদ বাড়ানোর পাশাপাশি ভোজ্য তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে’।

সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এ বছর সরিষার তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিকটন। আর ২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে স্বল্প মেয়াদি আমন ধান (ব্রি-৭৫,৭১) চাষ করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরও খবর পড়ুন:

Jonogoner Khobor - জনগণের খবর পোর্টালের গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:

 আমাদের পরিবার

About Us

Contact Us

Disclaimer

Privacy Policy

Terms and Conditions

Design & Developed by: Sheikh IT
sheikhit

জনগণের খবর পোর্টালের কোনো প্রকার নিউজ, ছবি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত অন্য কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। ধন্যবাদ।