Hi

১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‎‎সাঘাটায় আইন প্রয়োগে দ্বিমুখী নীতি‎ নিরীহদের জেল-জরিমানা

রিপোর্টারের নাম

ফয়সাল রহমান জনি (গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি)

উপজেলার বিভিন্ন অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পরে সাঘাটা উপজেলায় আইন প্রয়োগ নিয়ে চরম বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে । কেবল মাত্র লোক দেখানোর জন্য জেল-জরিমানা করা হচ্ছে । স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান যেন কেবল খেটে খাওয়া ও দুর্বল মানুষের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ, অথচ প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রিত বড় বড় অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চললেও সেখানে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ে না।

‎গত এক মাসে উপজেলার কাকড়া গাড়ী একাধিক অভিযানে কাকড়া চালকদের জেল ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে একই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান অবৈধ ইটভাটা, কয়লা কারখানা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রিত নানা অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান অভিযান নেই বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

‎সরজমিনে দেখা যায়, বালু বহন করা কাকড়া চালকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও বালু উত্তোলনের জড়িতরা ধরা ছোয়ার বাহীরে । একই ভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ইটভাটা ও কয়লা কারখানা প্রকাশ্যেই চালু রয়েছে। এসব কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও বর্জ্যে পরিবেশ মারাত্মক ভাবে দূষিত হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

‎উপজেলার সাধারণ মানুষ জানান , আইন যেন কেবল খেটে খাওয়া মানুষের জন্যই প্রয়োগ হচ্ছে। পরিবেশ ধ্বংসকারী ইটভাটা, অবৈধ কয়লা কারখানা ও প্রভাবশালী মহলের অবৈধ ব্যবসা সবার চোখের সামনেই চললেও সেখানে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায় না।

‎কাকড়া চালক গোলজার বলেন,পেটের দায়ে গাড়ি চালাই বলেই আমাদের জেল-জরিমানা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যারা কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা চালায়, তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। আইন কি শুধু আমাদের জন্য?

‎কাঠালতলীর বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ইটভাটা ও কয়লা কারখানার ধোঁয়ায় পুরো এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সবাই জানে কারা এসব চালায়, তবু প্রশাসন নীরব। এটা স্পষ্ট বৈষম্য।

‎স্থানীয় মোকছেদ আলী বলেন, সাঘাটা উপজেলা প্রশাসনের কাছে কি রাঘবোয়ালদের জন্য আলাদা কোনো আইন আছে? নিরীহদের ধরেই কি আইনের শাসন দেখানো হচ্ছে?

‎এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রতন কুমার দত্ত বলেন,ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইটভাটা ও কয়লা কারখানার বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের এখতিয়ারভুক্ত। এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ এলে পরিবেশ অধিদপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল কবির জানায়,আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলে। আমি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছি এবং বিধি অনুযায়ী নিয়ম মেনেই কাজ করে যাচ্ছি।

‎তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের এসব বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের মিল নেই। পুরো উপজেলায় অবৈধ ইটভাটা, কয়লা কারখানা ও প্রভাবশালী মহলের অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান ও কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে শেয়ার করুন

মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ই-মেইল সহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সংরক্ষণ করা হবে।

আপডেট : ০৪:৩৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
৩৭ দেখা
© সর্বস্বত স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © Jonogoner Khobor - জনগণের খবর
                                  কারিগরি সহযোগিতায়ঃ মো. সাইফুল ইসলাম                                  

‎‎সাঘাটায় আইন প্রয়োগে দ্বিমুখী নীতি‎ নিরীহদের জেল-জরিমানা

আপডেট : ০৪:৩৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

ফয়সাল রহমান জনি (গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি)

উপজেলার বিভিন্ন অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পরে সাঘাটা উপজেলায় আইন প্রয়োগ নিয়ে চরম বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে । কেবল মাত্র লোক দেখানোর জন্য জেল-জরিমানা করা হচ্ছে । স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান যেন কেবল খেটে খাওয়া ও দুর্বল মানুষের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ, অথচ প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রিত বড় বড় অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চললেও সেখানে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ে না।

‎গত এক মাসে উপজেলার কাকড়া গাড়ী একাধিক অভিযানে কাকড়া চালকদের জেল ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে একই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান অবৈধ ইটভাটা, কয়লা কারখানা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রিত নানা অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান অভিযান নেই বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

‎সরজমিনে দেখা যায়, বালু বহন করা কাকড়া চালকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও বালু উত্তোলনের জড়িতরা ধরা ছোয়ার বাহীরে । একই ভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ইটভাটা ও কয়লা কারখানা প্রকাশ্যেই চালু রয়েছে। এসব কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও বর্জ্যে পরিবেশ মারাত্মক ভাবে দূষিত হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

‎উপজেলার সাধারণ মানুষ জানান , আইন যেন কেবল খেটে খাওয়া মানুষের জন্যই প্রয়োগ হচ্ছে। পরিবেশ ধ্বংসকারী ইটভাটা, অবৈধ কয়লা কারখানা ও প্রভাবশালী মহলের অবৈধ ব্যবসা সবার চোখের সামনেই চললেও সেখানে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায় না।

‎কাকড়া চালক গোলজার বলেন,পেটের দায়ে গাড়ি চালাই বলেই আমাদের জেল-জরিমানা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যারা কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা চালায়, তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। আইন কি শুধু আমাদের জন্য?

‎কাঠালতলীর বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ইটভাটা ও কয়লা কারখানার ধোঁয়ায় পুরো এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সবাই জানে কারা এসব চালায়, তবু প্রশাসন নীরব। এটা স্পষ্ট বৈষম্য।

‎স্থানীয় মোকছেদ আলী বলেন, সাঘাটা উপজেলা প্রশাসনের কাছে কি রাঘবোয়ালদের জন্য আলাদা কোনো আইন আছে? নিরীহদের ধরেই কি আইনের শাসন দেখানো হচ্ছে?

‎এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রতন কুমার দত্ত বলেন,ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইটভাটা ও কয়লা কারখানার বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের এখতিয়ারভুক্ত। এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ এলে পরিবেশ অধিদপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল কবির জানায়,আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলে। আমি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছি এবং বিধি অনুযায়ী নিয়ম মেনেই কাজ করে যাচ্ছি।

‎তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের এসব বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের মিল নেই। পুরো উপজেলায় অবৈধ ইটভাটা, কয়লা কারখানা ও প্রভাবশালী মহলের অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান ও কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।