Hi

০৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পরিবহন সংকট: ২০০ টাকার ভাড়া নিচ্ছে ৯০০ টাকা

খোরশেদ আলম, সাভার প্রতিনিধি

ঈদ যাত্রার দ্বিতীয় দিনেও বেড়েছে যাত্রীর চাপ। যাত্রীর তুলনায় পর্যাপ্ত পরিবহন কম থাকায় ভোগান্তি পড়েছে নাড়ীর টানে ঘরে ফেরা মানুষ। ফলে ভাড়া গুণতে হচ্ছে কয়েকগুণ। দুই’শ টাকার ভাড়া নয়’শ ও পাঁচ’শ টাকার ভাড়া ২ হাজার নিচ্ছে বলে দাবি যাত্রীদের।

বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা আরিচা, নবীগর-চন্দ্রা মহাসড়কের সাভার, নবীনগর, জিরানীবাজার ও বাইপাইল বাস স্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীদের উপচে পড়া ভীড়। কিন্তু সে তুলনায় সড়কে পরিবহন নেই। পরিবহন সংকটের মুখে প্রকৃত ভাড়ার প্রায় ৪ গুন বেশি নিচ্ছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

অপর চালক মোতালেব সরকার বলেন, আমরা বছরে দুই ঈদে ব্যবসা করি। আমাদের তো মালিক বাড়তি বেতন দেন না। আমাদেরও মা – বাবা স্ত্রী সন্তান ও পরিবার রয়েছে। বাংলাদেশের সবাই ঈদ উদযাপন করে। আমরাই শুধু করতে পারি না। আমরা পরিবারের আনন্দের দিকে তাকাই না, তাদের ছাড়াই ঈদ উদযাপন করি। যাত্রীদের নিয়ে গন্তব্যে গিয়ে অনেক সময় থাকতে হয় আবার তাদের নিয়ে ফিরে আসতে হয়। আমরা তো পরিবারের জন্য অন্তত কেনাকাটা করবো। এর জন্য হলেও ঈদে আমাদের একটু বেশি ভাড়া দেওয়া উচিৎ।

বাইপাইল বাস স্ট্যান্ড থেকে রংপুর যাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছি। সড়কে যাত্রীর তুলনায় বাসের সংখ্যা অনেক কম। এই সুযোগটাই নেওয়ার চেষ্টা করছেন চালকরা। তারা ২০০ টাকার ভাড়া চাচ্ছেন ৭০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা। আমাদের প্রতি তারা যে অন্যায় করছেন এটা বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। তাই এখনও দাঁড়িয়ে আছি।

সাভার পরিবহনের চালক মহসিন বলেন, দূরপাল্লার বাস সব গতকাল চলে গেছে। তাই সড়কে পরিবহনের সংখ্যা কম। যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি। বাস দাঁড়াতেই প্রতিযোগীতা করে বাসে উঠছেন যাত্রীরা। তারা নিজেই বেশি ভাড়ার প্রস্তাব করছেন এবং বেশি ভাড়া দিয়ে গাড়িতে উঠছেন। আমরা যাত্রীদের কাছে জোর করে ভাড়া নিচ্ছি না। তারা নিজেরাই প্রতিযোগীতা করে ভাড়া বেশি দিয়ে সিট নিচ্ছেন।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, গতকাল রাত থেকে পরিবহনের তুলনায় যাত্রী চাপ বেশি হয়। যা সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর চাপ আরও বেড়ে যায়। সড়কে পরিবহন কম এ বিষয়টি ঠিক। কিন্তু বেশি ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে এখনও কেউ অভিযোগ করে নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে শেয়ার করুন

মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ই-মেইল সহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সংরক্ষণ করা হবে।

আপডেট : ০৩:৫৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫
৭১ দেখা
© সর্বস্বত স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © Jonogoner Khobor - জনগণের খবর
                                  কারিগরি সহযোগিতায়ঃ মো. সাইফুল ইসলাম                                  

পরিবহন সংকট: ২০০ টাকার ভাড়া নিচ্ছে ৯০০ টাকা

আপডেট : ০৩:৫৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫

ঈদ যাত্রার দ্বিতীয় দিনেও বেড়েছে যাত্রীর চাপ। যাত্রীর তুলনায় পর্যাপ্ত পরিবহন কম থাকায় ভোগান্তি পড়েছে নাড়ীর টানে ঘরে ফেরা মানুষ। ফলে ভাড়া গুণতে হচ্ছে কয়েকগুণ। দুই’শ টাকার ভাড়া নয়’শ ও পাঁচ’শ টাকার ভাড়া ২ হাজার নিচ্ছে বলে দাবি যাত্রীদের।

বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা আরিচা, নবীগর-চন্দ্রা মহাসড়কের সাভার, নবীনগর, জিরানীবাজার ও বাইপাইল বাস স্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীদের উপচে পড়া ভীড়। কিন্তু সে তুলনায় সড়কে পরিবহন নেই। পরিবহন সংকটের মুখে প্রকৃত ভাড়ার প্রায় ৪ গুন বেশি নিচ্ছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

অপর চালক মোতালেব সরকার বলেন, আমরা বছরে দুই ঈদে ব্যবসা করি। আমাদের তো মালিক বাড়তি বেতন দেন না। আমাদেরও মা – বাবা স্ত্রী সন্তান ও পরিবার রয়েছে। বাংলাদেশের সবাই ঈদ উদযাপন করে। আমরাই শুধু করতে পারি না। আমরা পরিবারের আনন্দের দিকে তাকাই না, তাদের ছাড়াই ঈদ উদযাপন করি। যাত্রীদের নিয়ে গন্তব্যে গিয়ে অনেক সময় থাকতে হয় আবার তাদের নিয়ে ফিরে আসতে হয়। আমরা তো পরিবারের জন্য অন্তত কেনাকাটা করবো। এর জন্য হলেও ঈদে আমাদের একটু বেশি ভাড়া দেওয়া উচিৎ।

বাইপাইল বাস স্ট্যান্ড থেকে রংপুর যাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছি। সড়কে যাত্রীর তুলনায় বাসের সংখ্যা অনেক কম। এই সুযোগটাই নেওয়ার চেষ্টা করছেন চালকরা। তারা ২০০ টাকার ভাড়া চাচ্ছেন ৭০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা। আমাদের প্রতি তারা যে অন্যায় করছেন এটা বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। তাই এখনও দাঁড়িয়ে আছি।

সাভার পরিবহনের চালক মহসিন বলেন, দূরপাল্লার বাস সব গতকাল চলে গেছে। তাই সড়কে পরিবহনের সংখ্যা কম। যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি। বাস দাঁড়াতেই প্রতিযোগীতা করে বাসে উঠছেন যাত্রীরা। তারা নিজেই বেশি ভাড়ার প্রস্তাব করছেন এবং বেশি ভাড়া দিয়ে গাড়িতে উঠছেন। আমরা যাত্রীদের কাছে জোর করে ভাড়া নিচ্ছি না। তারা নিজেরাই প্রতিযোগীতা করে ভাড়া বেশি দিয়ে সিট নিচ্ছেন।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, গতকাল রাত থেকে পরিবহনের তুলনায় যাত্রী চাপ বেশি হয়। যা সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর চাপ আরও বেড়ে যায়। সড়কে পরিবহন কম এ বিষয়টি ঠিক। কিন্তু বেশি ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে এখনও কেউ অভিযোগ করে নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।