Hi

০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়িয়ায় রাতের আঁধারে ওএমএসের ১৬৫ বস্তা চাল বিক্রির পর জব্দ, থানায় মামলা

সাইফুল ইসলাম তরফদার, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার দেওখোলা বাজারে রাতের আঁধারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ওএমএস) ১৬৫ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে, রবিবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে চাল বিক্রির সময় স্থানীয়রা দেখে ফেললে ডিলারের লোকজন চাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে (৪ হাজার দুইশো ৯০ কেজি) ১৬৫ বস্তা চাল জব্দ করে। যার বর্তমান বাজারমূল্য দুই লাখ চৌদ্দ হাজার পাঁচশ টাকা।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন ডিলারের সহযোগীদের ভাড়া করা স্থানীয় দুটি দোকানে দিনের বেলা চালের বস্তা আনা-নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যায়, মামলার ১ নং আসামি শহিদ মিয়ার ভাড়া নেয়া দোকানে চালের বস্তা লোড-আনলোড করা হচ্ছে এবং অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ২ নং আসামি চাঁন মিয়ার ভাড়া নেয়া দোকানে চালের বস্তা দুটি ভ্যানে লোড করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ফুলবাড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মো: হাবিবুল্লাহ। তিনি জানান, ঘটনার দিন আমিই প্রথম রাতের আঁধারে সরকারি চাল বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরে ফেলি এবং এলাকাবাসীদের নিয়ে আটক করতে গেলে তাঁরা চালের বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার সাথে ডিলার, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত, নয়তো কিভাবে রাতের আঁধারে সরকারি চাল বিক্রি করে দেয় তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে ফুলবাড়িয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস.এম সালাহ উদ্দিন বলেন, চালের বস্তা সরকারি গুদাম থেকে বের হওয়ার পর আমাদের কোন দায়দায়িত্ব থাকে, কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সেই দায়ভার সম্পূর্ণ ডিলারের ওপর। যেহেতু চালের বস্তাগুলো জব্দ করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে তদন্ত করে ডিলারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রোকনুজ্জামান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ চালের বস্তাগুলো জব্দ করেছে। গত সোমবার রাতে এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে, আমরা ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা করছি।

চাল বিক্রির বিষয়ে জানতে ৫ নং দেওখোলা ইউনিয়নের ওএমএসের ডিলার মোঃ জিয়াউল হক আকন্দ, মোঃ জিয়াউল ইসলাম নয়ন ও মোঃ জিয়াউল হকের সাথে মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য যে,৫ নং দেওখোলা ইউনিয়নের ওএমএস এর ডিলার তিন জনই ফ্যাসিষ্টদের দোসর বলে জানা গেছে।

সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে শেয়ার করুন

মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ই-মেইল সহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সংরক্ষণ করা হবে।

আপডেট : ০১:২০:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫
৩৯৮ দেখা
© সর্বস্বত স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © Jonogoner Khobor - জনগণের খবর
                                  কারিগরি সহযোগিতায়ঃ মো. সাইফুল ইসলাম                                  

ফুলবাড়িয়ায় রাতের আঁধারে ওএমএসের ১৬৫ বস্তা চাল বিক্রির পর জব্দ, থানায় মামলা

আপডেট : ০১:২০:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার দেওখোলা বাজারে রাতের আঁধারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ওএমএস) ১৬৫ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে, রবিবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে চাল বিক্রির সময় স্থানীয়রা দেখে ফেললে ডিলারের লোকজন চাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে (৪ হাজার দুইশো ৯০ কেজি) ১৬৫ বস্তা চাল জব্দ করে। যার বর্তমান বাজারমূল্য দুই লাখ চৌদ্দ হাজার পাঁচশ টাকা।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন ডিলারের সহযোগীদের ভাড়া করা স্থানীয় দুটি দোকানে দিনের বেলা চালের বস্তা আনা-নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যায়, মামলার ১ নং আসামি শহিদ মিয়ার ভাড়া নেয়া দোকানে চালের বস্তা লোড-আনলোড করা হচ্ছে এবং অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ২ নং আসামি চাঁন মিয়ার ভাড়া নেয়া দোকানে চালের বস্তা দুটি ভ্যানে লোড করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ফুলবাড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মো: হাবিবুল্লাহ। তিনি জানান, ঘটনার দিন আমিই প্রথম রাতের আঁধারে সরকারি চাল বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরে ফেলি এবং এলাকাবাসীদের নিয়ে আটক করতে গেলে তাঁরা চালের বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার সাথে ডিলার, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত, নয়তো কিভাবে রাতের আঁধারে সরকারি চাল বিক্রি করে দেয় তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে ফুলবাড়িয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস.এম সালাহ উদ্দিন বলেন, চালের বস্তা সরকারি গুদাম থেকে বের হওয়ার পর আমাদের কোন দায়দায়িত্ব থাকে, কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সেই দায়ভার সম্পূর্ণ ডিলারের ওপর। যেহেতু চালের বস্তাগুলো জব্দ করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে তদন্ত করে ডিলারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রোকনুজ্জামান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ চালের বস্তাগুলো জব্দ করেছে। গত সোমবার রাতে এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে, আমরা ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা করছি।

চাল বিক্রির বিষয়ে জানতে ৫ নং দেওখোলা ইউনিয়নের ওএমএসের ডিলার মোঃ জিয়াউল হক আকন্দ, মোঃ জিয়াউল ইসলাম নয়ন ও মোঃ জিয়াউল হকের সাথে মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য যে,৫ নং দেওখোলা ইউনিয়নের ওএমএস এর ডিলার তিন জনই ফ্যাসিষ্টদের দোসর বলে জানা গেছে।