
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খানকে আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ মে)-এর মধ্যে অপসারণের দাবি জানিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।
সোমবার (২৬ মে) এনবিআর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান।
তারা বলেন, যৌক্তিক কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে গঠিত এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। পরিষদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং একটি শক্তিশালী, দক্ষ ও জনবান্ধব এনবিআর গঠনে প্রস্তাবিত সংস্কার ভাবনা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে। এ লক্ষ্যে আগামী মাসে ‘কেমন এনবিআর চাই’ শীর্ষক একটি সেমিনার বা মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন অংশ নেবেন।
সংগঠনের অভিযোগ, সম্প্রতি ঘোষিত অধ্যাদেশের খসড়া প্রণয়নের শুরু থেকে এনবিআরের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান গোপনীয়তা ও অসহযোগিতার আশ্রয় নিয়েছেন। এতে রাজস্ব কাঠামো বিষয়ে এনবিআরের অভ্যন্তরীণ মতামত ও প্রত্যাশা সরকার পর্যন্ত পৌঁছায়নি। তারা আরও অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সুবিধাভোগী প্রশাসনের অংশ হিসেবে ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি এবং কর ফাঁকিতে সুবিধা দিতে জুলাই পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ অডিট কার্যক্রম বন্ধ রাখেন তিনি।
এছাড়াও, অর্থবছরের মাঝপথে অযৌক্তিকভাবে ভ্যাট হার বাড়িয়ে দেশের অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে। নেতারা বলেন, তিনি সরকারের সঙ্গে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের গঠনমূলক আলোচনার পথ রুদ্ধ করেছেন এবং বারবার বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করেছেন। তার অবস্থান ষড়যন্ত্রমূলক না হলে সমস্যার এত দীর্ঘসূত্রতা হতো না বলেও মত দেন তারা।
চূড়ান্তভাবে ২৯ মে’র মধ্যে চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করে পরিষদ জানায়, তার প্রতি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আস্থা ভেঙে পড়েছে। তাই পূর্বঘোষিত লাগাতার অসহযোগ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সংগঠনটি আরও দাবি করে, জাতীয় স্বার্থে এমন একজন কর্মকর্তাকে এনবিআরের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিতে হবে যিনি রাজস্ব নীতি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ, দক্ষ এবং নীতি-নিষ্ঠ।
সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, রাজস্ব সংস্কার পরামর্শক কমিটির প্রতিবেদন খুব শিগগিরই সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ পাবে। তারা আরও জানায়, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার লক্ষ্যে সরকারকে আলোচনায় বসার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চলমান আন্দোলনের কারণে দাপ্তরিক কাজে বিঘ্ন ঘটলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী অফিস সময়ের বাইরে অতিরিক্ত ৪–৫ ঘণ্টা কাজ করবেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






