Hi

০৫:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীয়া হাসপাতালে প্রথমবারের মতো পিত্তথলির পাথর অপারেশন

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইতিহাস গড়ল চিকিৎসা বিভাগ। প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পন্ন হলো পিত্তথলির পাথর অপারেশন। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় খুশি এলাকাবাসী।

রবিবার (২৫ মে) উপজেলার চৌদার গ্রামের লুৎফা বেগম (৫০) নামের এক নারী রোগীর পিত্তথলিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই পেটের ব্যথায় ভুগছিলেন তিনি। অপারেশনটি পরিচালনা করেন সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ মোহাম্মদ ছাইফুল মালেক। তাকে সহায়তা করেন অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ মমিনুল ইসলাম।

অপারেশন চলাকালে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ হাসানুল হোসেন।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়
ডাঃ মোহাম্মদ হাসানুল হোসেন বলেন, “এই ধরনের অপারেশন এখন পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে হয়নি। প্রথমবারের মতো এটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এর মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করলাম যে উপজেলা পর্যায়েও জটিল অপারেশন করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “আগে পিত্তথলির পাথর অপসারণের জন্য রোগীদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) যেতে হতো। যদিও সেখানে অপারেশন ফ্রি, তবে আনুষঙ্গিক খরচ ও স্বজনদের থাকা-খাওয়া মিলে খরচ হতো প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এখন নিজ উপজেলা থেকেই সেবা পাওয়ায় খরচ যেমন কমবে, তেমনি ভোগান্তিও কমবে।”

প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার কথা জানালেন চিকিৎসকেরা-অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পেছনে হাসপাতালের সার্বিক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা। সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাইফুল মালেক বলেন, “আমাদের হাতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ছিল না, কিন্তু সাহস ও আন্তরিকতা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। অবশেষে আমরা সফল হয়েছি।”

অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ডা. মমিনুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের অপারেশনে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেদিক থেকে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছি।”

জমিদাতাসহ সবাইকে কৃতজ্ঞতা
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে হাসপাতালের জমিদাতা মরহুম মুকছেদ আলীর অবদান। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এই ঐতিহাসিক দিনে।

উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ফুলবাড়ীয়া প্রেসক্লাব এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন ডা. মোহাম্মদ হাসানুল হোসেন।

‘মডেল হাসপাতাল’ গড়ার স্বপ্ন
যোগদানের পর থেকেই হাসপাতালের দৃশ্যপট পাল্টে দিতে সচেষ্ট ডা. হাসানুল হোসেন। রোগীদের সেবার মান উন্নয়নে সব বিভাগে চলছে সংস্কার ও আধুনিকায়ন। তিনি বলেন, “আমরা ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এটি শুধু কথার কথা নয়, এর জন্য মাঠে কাজ করছি।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এমন উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। এখন প্রয়োজন এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

ট্যাগ :

মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ই-মেইল সহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সংরক্ষণ করা হবে।

© সর্বস্বত স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © Jonogoner Khobor - জনগণের খবর
                                  কারিগরি সহযোগিতায়ঃ মো. সাইফুল ইসলাম                                  

ফুলবাড়ীয়া হাসপাতালে প্রথমবারের মতো পিত্তথলির পাথর অপারেশন

আপডেট : ০১:৩৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইতিহাস গড়ল চিকিৎসা বিভাগ। প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পন্ন হলো পিত্তথলির পাথর অপারেশন। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় খুশি এলাকাবাসী।

রবিবার (২৫ মে) উপজেলার চৌদার গ্রামের লুৎফা বেগম (৫০) নামের এক নারী রোগীর পিত্তথলিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই পেটের ব্যথায় ভুগছিলেন তিনি। অপারেশনটি পরিচালনা করেন সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ মোহাম্মদ ছাইফুল মালেক। তাকে সহায়তা করেন অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ মমিনুল ইসলাম।

অপারেশন চলাকালে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ হাসানুল হোসেন।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়
ডাঃ মোহাম্মদ হাসানুল হোসেন বলেন, “এই ধরনের অপারেশন এখন পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে হয়নি। প্রথমবারের মতো এটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এর মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করলাম যে উপজেলা পর্যায়েও জটিল অপারেশন করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “আগে পিত্তথলির পাথর অপসারণের জন্য রোগীদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) যেতে হতো। যদিও সেখানে অপারেশন ফ্রি, তবে আনুষঙ্গিক খরচ ও স্বজনদের থাকা-খাওয়া মিলে খরচ হতো প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এখন নিজ উপজেলা থেকেই সেবা পাওয়ায় খরচ যেমন কমবে, তেমনি ভোগান্তিও কমবে।”

প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার কথা জানালেন চিকিৎসকেরা-অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পেছনে হাসপাতালের সার্বিক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা। সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাইফুল মালেক বলেন, “আমাদের হাতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ছিল না, কিন্তু সাহস ও আন্তরিকতা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। অবশেষে আমরা সফল হয়েছি।”

অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ডা. মমিনুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের অপারেশনে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেদিক থেকে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছি।”

জমিদাতাসহ সবাইকে কৃতজ্ঞতা
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে হাসপাতালের জমিদাতা মরহুম মুকছেদ আলীর অবদান। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এই ঐতিহাসিক দিনে।

উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ফুলবাড়ীয়া প্রেসক্লাব এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন ডা. মোহাম্মদ হাসানুল হোসেন।

‘মডেল হাসপাতাল’ গড়ার স্বপ্ন
যোগদানের পর থেকেই হাসপাতালের দৃশ্যপট পাল্টে দিতে সচেষ্ট ডা. হাসানুল হোসেন। রোগীদের সেবার মান উন্নয়নে সব বিভাগে চলছে সংস্কার ও আধুনিকায়ন। তিনি বলেন, “আমরা ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এটি শুধু কথার কথা নয়, এর জন্য মাঠে কাজ করছি।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এমন উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। এখন প্রয়োজন এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।