,
রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

২০ বছরে একই পরিবারের ৮ সদস্যের মৃত্যু, তবে আজও কোনো বিচার মেলেনি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০২২
  • ৯০ Time View

সাইফুল ইসলাম তরফদার, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:  রোববার (১৭ জুলাই) ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রায়মণি এলাকায় ট্রাকচাপায় স্ত্রী-সন্তানসহ নিহত জাহাঙ্গীরের বাড়িতে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা যায়।

বাড়ির পাশে ৩ টি নতুন কবর।কবরগুলো সুফিয়া বেগমের একমাত্র ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪০), অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ রত্না বেগম (৩০) ও নাতনী সানজিদার (৬)। দুদিন ধরে কবরের পাশে বসেই কান্না করছেন তিনি। পাশেই বসে আছে বাবা, মা ও বোন হারানো অপর দুই সন্তান এবাদত মিয়া (৮) ও জান্নাত আক্তার (১০)। ঘটনায় নিরব এলাকাবাসী। কারোর মুখেই কোনো শব্দ নেই।

জানা যায়, প্রায় ২০ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জাহাঙ্গীর আলমসহ তার পরিবারের ৮ জনের প্রাণ গেছে। এরই মধ্যে ট্রাকচাপায় অন্তঃসত্ত্বা মায়ের পেট ফেটে নবজাতক জন্মের ঘটনাকে অলৌকিক বলছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু বলেন, ওই সড়কে আমার দুই ছেলে, নাতনি, পুত্রবধূ, আমার এক ভাই ও তিন মামাসহ মোট ৮ জন মারা গেছেন।

জাহাঙ্গীর আলমের ফুপু হেলেনা বলেন, এই তিনজনসহ ওই সড়কে গত ২০ বছরে আমাদের পরিবারের ৮ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তবে আজও পর্যন্ত কোনো বিচার পেলাম না। সঠিক বিচার পেলে হয়তো বারবার এমন ঘটনা ঘটতো না। এবারের ঘটনায় আমরা দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

বোন মমতাজ আক্তার বলেন, আমার ভাবি ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ঈদের আগেই সন্তান জন্মের কথা ছিল। তবে হয়নি। কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা জানার জন্য ত্রিশালে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভাতিজি আর ভাই-ভাবি আর ফিরলেন না। অবুঝ শিশুগুলোকে যে এতিম করেছে তার কঠিন বিচার চাই।

জাহাঙ্গীরের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু বলেন, আমার এক মাত্র ছেলে ছিল জাহাঙ্গীর। ওই নবজাতকসহ জাহাঙ্গীরের তিন ছেলে মেয়ে জীবিত রয়েছে। তিন জনের মাঝে ছেলেটা কিছুটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। আমি গরিব মানুষ, ছোট একটা চায়ের দোকান করে আমার সংসার চলে। ওই তিন সন্তানকে কিভাবে লালন পালন করবো বুঝতে পারছি না। সরকার যদি আমাকে সহায়তা না করে তাহলে ওদের নিয়ে বেঁচে থাকাটা আমার জন্য কঠিন।

সমাজ সেবক আনিছুর রহমান  বলেন, জাহাঙ্গীর শ্রমিকের কাজ করতেন। শনিবার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রত্নাকে নিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে ত্রিশালে যান। এ সময় তার সঙ্গে যায় মেয়ে সানজিদাও। সেখানে গিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় ট্রাকচাপায় তিনজনই মারা যান। তবে ট্রাকচাপায় মায়ের পেট ফেটে বাচ্চা জন্ম নেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন ঘটনা। দোয়া করি শিশু যেন বেঁচে থাকে।

ত্রিশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এই ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ বা মামলা করতে কেউ আসেনি। তবে ট্রাকটি থানা হেফাজতে আছে।

জেলা প্রশাসক এনামুল হক বলেন, খবর পেয়ে আমি ওই বাচ্চাটিকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাাম। বাচ্চার চিকিৎসার যাবতীয় খরচ ও ভবিষ্যতে যেন তার কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য তার নামে একটি ব্যাংক একাউন্ট করে দেওয়া হবে।

গত শনিবার রাতেই জানাজা শেষে উপজেলার রায়মণি এলাকার নিজ বাড়িতে পাশাপাশি তাদের দাফন করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরও খবর পড়ুন:

Jonogoner Khobor - জনগণের খবর পোর্টালের গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:

 আমাদের পরিবার

About Us

Contact Us

Disclaimer

Privacy Policy

Terms and Conditions

Design & Developed by: Sheikh IT
sheikhit

জনগণের খবর পোর্টালের কোনো প্রকার নিউজ, ছবি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত অন্য কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। ধন্যবাদ।