,
সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

হারিজা-শিব্বীর দম্পতির ভয়ংকর এবং দুর্ধর্ষ প্রতারণার কাহিনী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০২২
  • ৪৭৬ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক: হারিজা আক্তার (পিতাঃ শেখ আব্দুল মজিদ মিয়া, স্বামীঃ শিব্বির আহমাদ, মাতাঃ সেলিনা বেগম) প্রতারনা যার প্রধান পেশা। আর এ পেশায় তাকে পূর্ণ সহযোগিতা করছে তার দ্বিতীয় স্বামী শিব্বির আহমাদ। এমপি, মন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনে, পুলিশের কর্মকর্তা এবং সরকারি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের সচিবদের সাথে তার বিচরণ অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের ও ঘনিষ্ঠ বলে জাহির করে। এর পাশাপাশি নিজেকে দানশীল মানব হিতৈষী বলে পরিচয় দেয়।

হারিজা আক্তার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে একটি নতুন সিমকার্ড কিনেন, তারপর নাম্বারটি সেই উচ্চ পর্যায়ের নেতা কিংবা কর্মকর্তার নাম দিয়ে নিজের মোবাইল ফোনে সেইভ করে ট্রু-কলার অ্যাপসের মাধ্যমে। যাতে পরবর্তীতে যে কেউ নম্বরটি ট্রু-কলারের মাধ্যমে যে কেউ ইচ্ছে করলে ঐ উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তির নামই দৃশ্যমান হয় মোবাইলে। কেউ যখন ঐ নম্বরে ফোন করে তখন অপর প্রান্ত থেকে হারিজার স্বামী শিব্বীর আহমাদ কিংবা তাদের সহযোগী কেউ ফোন ধরে অত্যন্ত চতুরতার সাথে ঐ নেতা কিংবা কর্মকর্তার পরিচয়ে কথা বলে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করায়। মানুষ তখন তার উপর আস্থা রাখে, পাশাপাশি সে কাজ সম্পর্কিত বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের সচিবের স্বাক্ষরিত প্রামানিক কাগজপত্র দেখানোর কারণে তার উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করে হারিজা আক্তার আর তার স্বামীকে টাকা দেয় কাজ পাইয়ে দেবার জন্য। কিন্তু পরবর্তীতে কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে কিংবা মন্ত্রনালয়ে ঐ কাগজ ভেরিফাই করতে গেলেই দেখে যে এটা সম্পূর্ণই ভুয়া কাগজ। তখন ঐ প্রতারিত ব্যক্তি হারিজার কাছে টাকা ফেরত চাইতে গেলে সে উল্টো মামলা-হামলার মারাত্মক হুমকি দেয়, কখনো কখনো মিথ্যা মামলাও করে হেনস্থা করে। আর এতে প্রতারিত ব্যক্তিটি থানা পুলিশ, কোট কাচারি সহ মামলার জন্য আরও অতিরিক্ত খরচের কথা বিবেচনা করে তাদের সাথে আপোষ রফা করে ফেলে অথবা আতংকিত হয়ে দূরত্ব বজায় রেখে চলে।

  • প্রতারনায় সিদ্ধহস্ত হারিজা-শিব্বীর দম্পতির প্রতারনার স্বীকার ২০১৫ সালে মাহমুদীয়া মহিলা মাদ্রাসার প্রিন্সিপ্যাল আতাউর রহমান কাশেমী। যাকে তার গ্রামের বাড়ি সংলগ্ন ১০০ একর সরকারি খাস জমি লীজ আনয়ন করে দিতে পারবে বলে তার কাছ থেকে কয়েক দফায় ছয় লক্ষ বিশ হাজার টাকা নগদ এবং দশ লক্ষ টাকার একটি চেক, ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প জামানত হিসেবে রেখে দ্রুত কাজ শেষ করার প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে হারিজা আক্তারের প্রতারণা প্রকাশ পেলে মোঃ আতাউর রহমান কাশেমী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং ১৬/১৫।

হারিজা-শিব্বীর দম্পতির এলিফ্যান্ট রোডে একটি মোবাইল পার্টসের শোরুম ছিল। সেখানের প্রায় ১৭/১৮ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সাথে মিলে একটা সমিতি করে। প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা তাদের কাছে গচ্ছিত রাখে সম্মিলিত ভাবে জমি কেনার জন্য উত্তরার রানাভোলাতে। কিন্তু পরবর্তীতে ব্যবসায়ীগণ যখন জানতে পারেন, হারিজা-শিব্বীরের নামেই শুধু জমি ক্রয় করে, তখন তারা এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে গেলে দেখে হারিজা-শিব্বীর সেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে ধায়। তারা নিউমার্কেট থানায় এন আই অ্যাক্ট-১৩৮ ধারায় একটি সিআর মামলা দায়ের করে যার নম্বর- ৩৮৯/২০২০ |

হারিজা আক্তারের সাথে মুজিবুর রহমান নামে এক ভদ্রলোকের সাথে ফেইসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। মুজিবুরের ভাগিনা দাউদ ইব্রাহীম (২৩) কে নেদারল্যান্ডে পাঠানোর কথা বলে তার কাছ বিভিন্ন দফায় নগদে এবং ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট নং-২০৫০২১০০২০2220016, মিরপুর শাখায় সর্বমোট ৮০০০০০ (আট লক্ষ) টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তিতে হারিজার প্রতারনা বুঝতে পারলে মুজিবুর তার কাছে টাকা ফেরত চাইলে হারিজা উলটো মামলা করার ব্যাপক হুমকি ধমকি দিতে থাকে। এতে ভয়ে মুজিবুর রমনা মডেল থানায় হারিজা-শিব্বীরের বিরুদ্ধে মোঃ মুজিবুর রহমান নামে এক ভদ্রলোক জিডি এবং পরবর্তিতে মামলা দায়ের করে যার মামলা নং- ১৩, তারিখ ২২/০৮/২০১১ইং, ধারা-৪০৬/৪২০/৫০৬/৩৪ পেনাল কোড।

উল্লেখ্য, গত ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে হারিজা আক্তার এই মামলায় ২৫ দিন জেলে ছিল। জেল থেকে বেরিয়ে সে আরও বেশি হিংস্র হয়ে ওঠে।

  • হারিজা আক্তার এবং শিব্বির আহমাদের সবচেয়ে বড় প্রতারণা হলো: ফেইসবুকের মাধ্যমে মধ্যবয়সী সহজ সরল বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে তাদের সাথে পরিচিত হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে বন্ধুত্ব এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরী হয়। হারিফা আক্তার অত্যন্ত চতুরতার সাথে নিজেকে একজন বিশিষ্ট ব্যনসারী, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, বেস্ট উইমেন এন্টারপ্রেরণার, গৃহিনী ফুড প্রোডাক্টসের মালিক, নকল ও ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, গোপালগঞ্জ বৃদ্ধাশ্রম এর প্রতিষ্ঠাতা, সাপ্তাহিক সত্যকণ্ঠ নামক একটি পত্রিকার সম্পাদক ইত্যাদি এবং তালাকপ্রাপ্তা বলে পরিচয় দেয়। পাশাপশি ঐসব ব্যক্তিদের পরিবারের সাথে উপহার সামগ্রী প্রদানের মাধ্যমে কিংবা রান্না করা খাবার পাঠিয়ে ব্যবসা সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশ্বস্ততার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের সর্বাত্মক চেষ্টা করে। মাত্রাতিরিক্ত ভালবাসার অভিনয়ে সকলেই প্রথমে কিছুটা বিভ্রান্ত হলেও হারিজা আক্তারের নিজের বাসস্থান, সাজসজ্জা, কথাবার্তায় ওভার স্মার্টনেস ও আচরনের দ্বিধাহীনতা দেখে তাকে পূর্ণ বিশ্বাস করে। পরবর্তিতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সৃষ্টি করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ঐ ব্যক্তিকে অন্য কোনো জেলায় কাজি অফিসে নিয়ে গিয়ে অন্তরঙ্গতার কল রেকর্ড, ছবি, ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে বিয়ে করতে বাধ্য করে।

পাশাপাশি আশ্বস্ত করে এই বলে যে, এই বিয়ে ব্যবসায়িক সম্পর্কের জন্য সামাজিক ঢাল হিসেবে থাকবে। কিন্তু বিবাহ পরবর্তিতেই হারিজা আক্তার তার স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করে। আকর্ষিকভাবে থানায় নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশী হামলা করা, সামাজিকভাবে হেয় করা সহ মোবাইলে ব্যাপক হুমকি দমকির মাধ্যমে বিপর্যপ্ত করে প্রতারিত ব্যাক্তিকে আপোষ রফায় বাধ্য করে মোহরানার লক্ষ লক্ষ টাকা আসায় করে। মানসম্মান রক্ষার্থে এবং জোল জরিমানার ভয়ে হারিজা আক্তারকে মোহরানা ও খোরপোষের টাকা প্রদান পূর্বক আপোষের মাধ্যমে খোলা তালাক দিয়ে নিজেকে রক্ষা করে। এর পরপরই হারিজা আক্তার শিব্বীর আহমাদকে আবার বিয়ে করে ভাড়া বাসা অন্যত্র স্থানান্তর করে। এ পর্যন্ত হারিজা আক্তারের ছয়টি বিবাহের কাবিন নামা পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, এই বিবাহ নাটক এবং ভূয়া কাবিননামা প্রস্তুত করতে যেসব কাজি অফিস তাদেরকে পূর্ণ সহায়তা করে সেগুলোর মধ্যে: ১নং লিয়াকত এভিনিউ সোনালী ব্যাংক, সদরঘাট ৩নং ব্রীজ এর পূর্ব পাশে, কোতয়ালী, সূত্রাপুর, ঢাকা এর কাজী অফিসের কাজী হাফেজ মাওঃ মুহাঃ আমিনুল ইসলাম এবং ৭৮, নওয়াবপুর রোড, আনোয়ার টাওয়ার (৫ম তলা) থানাঃ ওয়ারী, ঢাকা- ১১০০ এর কাজী অফিসের কাজী হাফেজ মোঃ মাহবুবুর রহমান |

হারিজা আক্তার বিগত ২০১৯ সালে মাহমুদুদুল হাসান নামে একজন ইঞ্জিনিয়ার ব্যবসায়ীকে ফেইসবুকের মাধ্যমে নিজেকে কুমারী পরিচয়ে আকৃষ্ট করে যথারীতি সে তার পরিকল্পনা মোতাবেক ব্যবসায়ের ফাঁদে ফেলে, পরবর্তিতে চামড়া ও পাটজাত পণ্যের শোরুম দেয়ার কথা বলে তাকে সিলেট নিয়ে যায় এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে হারিজা শিব্বিরের পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক হাওড়াপাড়া কাজি অফিসে আগে থেকে অবস্থান করা ৪/৫ জন সহযোগী সহ বিবাহের জন্য মাহমুদকে চাপ প্রয়োগ করলে সে ব্যবসায়িক সম্মানার্থে ১৯০০০০/- টাকা দেনমোহরে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। ঢাকা ফিরে এসে মাহমুদ যখন জানতে পারে হারিজা আক্তার ইতিপূর্বে আরও দুইটি বিয়ে করে তখন সে তার সাথে দেনমোহরের টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য উভয়ের সম্মতিতে হারিজা আক্তারকে ৩৫০০০০/-তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা প্রদান পূর্বক তাকে তালাকের নোটিশ প্রদান করলে হারিজা আক্তার মাহমুদুল হাসানের মালিকানাধীন ১৯৯/৩-৪ প্রগতি স্মরনী, বাড্ডা, ভেনাস কমপ্লেক্স এর তৃতীয় তলায় ৫৫০০ বর্গফুটের ফ্লোরটি তঙ্ক ২য় স্ত্রী হারিজা আক্তারকে দেনমোহর এর অংশ হিসেবে কাবিননামা মূলে বালাম বইয়ের ২-৪/২০১৯ এর ৬০নং পৃষ্ঠার ১৯নং কলামে উল্লেখ করে সেটি দাবী করে, যা পরবর্তিতে সিআইডির তদন্ত রিপোর্টে পাওয়া যায় যে, কাজির যোগসাজসে বালাম এই দুষ্টে কাবিননামায় একটিতে ১৬নং কলাম কাটার উপর লিখ্য, অন্যটি ফ্লেশ। আবার কুমারী কেটে তালাকপ্রাপ্তা লিখা হয়েছে। মাহমুদুল হাসান এ ব্যাপারে সিলেট কোর্টে একটি মামলা যার নম্বর ৭৩৬/২০২০ এবং ঢাকায় সি আর মামলা নং- ৪১১/২০২০ দায়ের করিলে কাজি আমেরিকায় পালিয়ে যায়, পরে ২২ জুন ২০২১ হারিজাকে তালাক প্রদান করে। বর্তমানে মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে। পরবর্তিতে ১৪ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে হারিজা আক্তার আবার শিব্বির আহমাদকে বিবাহ করে।

  • হারিজা আক্তার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ সালে আহাদ কামাল নামে প্রগতী ইন্ডাস্ট্রির ম্যানেজারকে একই কায়দায় খুলনায় নিয়ে গিয়ে ৩০নং ওয়ার্ড খুলনা সিটি কর্পোরেশন নিকাহ রেজিষ্ট্রি অফিসে কাজী মোঃ জাহাঙীর আলমের সহায়তায় বিবাহ করে। পরবর্তিতে একই কায়দায় আহস কামালকে মামলা হামলার ব্যাপক হুমকি ধমকি দিতে থাকলে আহাদ কামাল চাকুরি চলে যাওয়া এবং সামাজিক হেনস্থার ভয়ে কাজী অফিস,৭৮ নবাবপুর রোড, আনোয়ার টাওয়ার (৫ম তলা), ওয়ারী, ঢাকায় গিয়ে উভয় পক্ষের সম্মতিতে স্বাক্ষীগণের উপস্থিতিতে মোহরানার টাকা বাবদ ১০০০০০( নয় লক্ষ) প্রদান সাপেক্ষে খোলা তালাক প্রদান করে দ্রুত হারিঙ্গার সাথে বিবাহের বিষয়টি নিষ্পত্তি করে।

এর অব্যহতি পরে হারিজা আক্তার রেজুয়ানুল হক নামে একজন ব্যবসায়ীকে ফেইসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে নিজেকে উচ্চ মাপের ব্যবসায়ী পরিচয়ের সাথে ব্যবসা করার ইচ্ছায় ম্যাসেঞ্জারে ক্রমাগত তাকে প্রলোভিত করতে থাকলে এপ্রিল ২০২১ এ রেজুয়ানুল তাকে এক্সেপ্ট করে। পরবর্তিতে হারিজা যথারীতি তার পরিবারকে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদানের মাধ্যমে কিংবা রান্না করা খাবার পাঠিয়ে ব্যবসা সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশ্বস্ততার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের সর্বাত্মক চেষ্টা করে। রেজুয়ানুলকে তার বন্ধু হাসনাত এবং শহিদুল সহ চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ, তার সিনিয়র বন্ধু ওয়েল ফুড লিমিটেডের মালিক নজরুল ইসলামকে লালদিয়া চরে মাটি ভরাটের জন্য ৩৩ কোটি টাকার ঠিকাদারী কাজ, তার এক এসি বন্ধুকে রাঙামাটি থেকে বদলি, আরেকজনকে দেবিদ্বার, কুমিল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের নমিনেশন পাইয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হারিজা আক্তার রেজুয়ানুলের মাধ্যমে ২৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

বিগত ২৪ মে ২০২১ আরিখে চট্টগ্রামে লালদিয়া চরে মাটি ভরাটের কাজ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সুপারিশের ভিত্তিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পাইয়ে দিয়ে বলে রেজুয়ানুলকে নিয়ে চট্টগ্রাম যায়, সেখান থেকে তাকে ছলেবলে ১৪ লালখান বাজার ওয়ার্ড, খুলশি, চট্টগ্রামের একটি কাজি অফিসে নিয়ে গিয়ে আগে থেকে অবস্থান করা ৩৪ জন সহযোগীর মাধ্যমে মানসিকভাবে ব্লাকমেইল করে ০১ (এক) লক্ষ টাকা কাবিনে বিবাহ করতে বাধ্য করে বিবাহ পরবর্তীতে তার আচরণের মারাত্মক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। কিছুদিন পর হারিজার বাসায় যাতায়াত করত একজন। অনুধাবন করতে থাকে হারিজার দ্বিতীয় স্বামী শিব্বির আহমাদ সে বাসায় যাতায়াত করে, সে আরও জানতে পারে যে, মাহমুদুল হাসান এবং আব্দুল আহাদ কামাল নামে আরও দুজন ব্যক্তিকে এবং শিনিয়া আহমাদকে বিবাদী পুনরায় বিয়ে করেছে। এছাড়া সে উপলব্ধি করছিল ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারে অসংখ্য পুরুষদের সাথে প্রেমালাপে মত্ত থাকে এবং বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের কাজ পাইয়ে দেয়ার ভূয়া তদবীর বানিজ্য করে তার দ্বিতীয় স্বামী শিবীর আহমাদের সহযোগিতা নিয়ে। এসব বিষয় নিয়ে তার সাথে জগড়া-বিবাদের এক পর্যায়ে ২০ অক্টোবর,২০২১ তারিখে তীব্র বাক্য বিনিময় করলে রেজুয়ানুলকে কাবিননামায় উল্লিখিত ০১(এক) কোটি ঢাকা পরিশোধ করে তাকে তালাক প্রদান করতে বলে। রেজুয়ানুল এই কথায় একেবারে হতবিহুল হয়ে কাবিননামটি দেখে বিস্মিত হয়ে যায়। পরিবারকে ক্রমাগত মামলা, হামলার হুমকি দিতে থাকলে তারা ১২১০/২০১১ তারিখে খিলগাঁও থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি নং: ১১৬৫ এবং ১১৬৬ দায়ের করেন। এরপর হারিজা আক্তার তার পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক খিলগাঁও থানায় পর পর দুটি মিথ্যা নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা একটি ১৪/১০/২০২১ তারিখে মামলা নং-৩৬৭৯২, আরেকটি ২৭/১০/২০২১ তারিখে মামলা দায়ের করে। এই মামলা দুটি সর্বৈব মিথ্যা বলে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করে খিলগাঁও থানা। এরপর সে একে একে আরও কয়েকটি মিথ্যা হয়রানি মূলক সিআর মামলা দায়ের করে যার মামলার নম্বর সমূহ হলো: ২৫/১০/২০২১ তারিখে, যার তদন্ত করছে রমনা থানা। ০৩/০১/২০২২ তারিখে মামলা নং ১৪/২২ যা তদন্ত করছে পিবিআই এবং এফআরটি দাখিল করে বিজ্ঞ আদালতে এবং বরিশাল কোতোয়ালী থানায় জিআর নং -২২৫/ ২০২২। ইতিপূর্ণ হারিজা আক্তারের অব্যাহত মামলা হামলার হুমকি-ধামকির পরিপ্রেক্ষিতে রেজুয়ানুল খিলগাঁও থানায় ১২/১২/২১ তারিখে ভিডি নং ৮৬৪, (০৬/০১/২০২২ তারিখে জিডি নং ৫২১, ২১/১/২২ তারিখে জিডি নং ১৭৬৭ এবং পল্টন থানায় ০১/০৩/২০২২ তারিখে জিডি নং-৩২ দায়ের করে। সে হারিজার প্রতরনা এবং জালিয়াতির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম এমএম কোর্টে ১৬/০১/২০২২ তারিখে সিআর মামলা নং- ১৪/২০২২, দায়ের করে। হারিজা আক্তার এবং শিব্বির আহমাদ গং উক্ত বিষয়ে ক্ষিপ্ত হয়েই বিভিন্ন মামলাগুলো দায়ের করে। এখন সে রেজুয়ানুল এবং তার পরিবারকে ক্রমাগতই হত্যা ও মামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে তাকে তালাক দিয়ে যেন মোহরানার টাকা সম্পত্তি বিক্রয় করে হলেও প্রদান করে। অবশ্য এ বিষয়ে রেজুয়ানুল এবং মাহমুদুল হাসান পৃথকভাবে পুলিশ হেডকোয়ার্টারকে দালিলিক প্রমানাদি সহ অভিযোগ পত্র দাখিল করেছে যা তদন্তাধীন আছে।

  • হারিজা আক্তারের মূল টার্গেট হলো: ঢাকা শহরে বড়ি কিংবা ফ্ল্যাট আছে এমন নিরেট ভদ্রলোক ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়ের সুযোগ দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে কাজ পাইয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, আবার যদি কাজ না দিতে পারে সেই টাকার অগ্রীম চেকও দিয়ে রাখে। এরপর সেই চেক হারিয়ে গেছে বলে থানায় জিডি করে রাখে। পাশাপাশি নারী নির্যাতন, ধর্ষণ কিংবা জালিয়াতির মিথ্যা মামলা করে তাকে মারাত্মকভাবে হেনস্তা করতে থাকে। পরবর্তিতে তিনি হারিজার সাথে আপোষ করে দূরে সরে যেতে বাধ্য হন।

উল্লেখ্য যে, অসংখ্য পুরুষ সহ অসংখ্য পরিবারের দুর্দশার কারণ হলো হারিজা-শিব্বীর দম্পতি। হারিজা আক্তারের স্থায়ী ঠিকানা: শির‍যুগ, ঝালকাঠি সদর-১৪০০, এবং শিব্বীর আহমাদের স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রামঃ গুনহার, ইউনিয়নঃ ননীক্ষীর, কাশলিয়া, উপজেলাঃ মুকসুদপুর, জেলাঃ গোপালগঞ্জ। হারিজা আক্তারের গোপালগঞ্জ শ্বশুরবাড়ি হওয়ায় ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করে পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে বিশেষ করে তার এলাকার এমপি কর্নেল ফারুক খান সাহেবের ভাতিজি বলে রেফারেন্স ব্যবহার করে পুলিশ প্রশাসনে। আর এতে পুলিশও বিভ্রান্ত হয় মারাত্মকভাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরও খবর পড়ুন:

Jonogoner Khobor - জনগণের খবর পোর্টালের গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:

 আমাদের পরিবার

About Us

Contact Us

Disclaimer

Privacy Policy

Terms and Conditions

Design & Developed by: Sheikh IT
sheikhit

জনগণের খবর পোর্টালের কোনো প্রকার নিউজ, ছবি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত অন্য কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। ধন্যবাদ।