,
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:২৫ অপরাহ্ন

সুন্দরগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সোহরাব আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগের নেপথ্য রহস্য কি?

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০২২
  • ৪০১ Time View

মাইদুল ইসলাম, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি প্রতিপক্ষ মহল কর্তৃক বজরা হাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহরাব আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ,যুক্তি-তর্ক নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হওয়ায় মিলছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। জনমনে প্রশ্ন ঘটনার নেপথ্য রহস্য কি?

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বজরা হাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৮৩ ইং সালে স্থাপিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ বিদ্যালয়ে মঞ্জুরী নবায়ন ও নির্বাচিত কমিটি নেই। জেনারেল ও রিজার্ভ ফান্ডের টাকা অবৈধভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিদ্যালয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অবস্থিত।মাত্র সাড়ে ৯ শতক জমির উপরে অবস্থিত হওয়ায় বিধি অনুযায়ী কয়েকগুণ জমির প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকার কারণে বিদ্যালয়টি বেহাল অবস্থায় আছে। এসএসসি পর্যন্ত বিদ্যালয় পরিচালনা কিন্তু বিদ্যালয়ের কোন কোর্ড পরিবর্তন নেই। অফিসে ছাত্র /শিক্ষক হাজিরা বই থাকে না। সহকারী শিক্ষকগণ অনুপস্থিত থাকায় কোন লেখাপড়া হয় না। পর্যাপ্ত পরিমাণে শ্রেণীকক্ষ,লাইব্রেরী, কম্পিউটার ল্যাব,কমন রুম ও বাথরুম নেই।প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য করে চাকুরী প্রার্থীদের কাছ থেকে আনুমানিক ৩০ লক্ষ টাকা ও স্ত্রীর নামে জমি আত্মসাৎ করেছেন। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী ও অভিভাবকগণের পক্ষ হতে ১১ জনের স্বাক্ষরযুক্ত একটি লিখিত অভিযোগ গত ২৯-০৫-২০২২ ইং তারিখে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে দাখিল করা হয়।

এ প্রেক্ষিতে গত ৩১-০৫-২০২২ ইং তারিখে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুঃ মাহমুদ হোসেন মন্ডল স্বাক্ষরিত নোটিশের জবাব দাখিল করেন প্রধান শিক্ষক সোহরাব আলী।জবাবে উল্লেখ করেন,প্রতিপক্ষ মহলের আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আগামী ৩১-১২-২০২৪ ইং তারিখ পর্যন্ত বিদ্যালয়টির মঞ্জুরী নবায়ন রয়েছে এবং বর্তমানে চলমান কমিটি আছে। ফান্ডে টাকাসহ বিদ্যালয়টি নিজস্ব ৩০ শতাংশ জমির উপরে অবস্থিত। এখানে পাঠদান ব্যবস্থাসহ কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থীও রয়েছে। কোর্ড পরিবর্তন সম্পুর্ণ সরকারের ইচ্ছাধীন বিষয়।শিক্ষক ও ছাত্র হাজিরা খাতা সংযুক্ত। বিদ্যালয়ে শ্রেণী উপযোগী ক্লাসরুম, ওয়াশ ব্লক, টু ইন ল্যাট্রিন ২টি,২টি মটর দ্বারা সার্বক্ষণিক পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রধান শিক্ষক সোহরাব আলী জবাব দাখিল করলেও দায়েরকৃত আনিত অভিযোগের ব্যাখা-বিশ্লেষণ,যুক্তি-তর্ক নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হওয়ায় মিলছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য।অনেকেই বলছেন,যেকোন ধরণের অভিযোগ বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের আলোকে হওয়া উচিত। প্রতিষ্ঠানটির মঞ্জুরী নবায়ন ও নির্বাচিত কমিটি কতদিন ধরে নেই অভিযোগে তার নির্দিষ্ট সময়সীমার উল্লেখ নেই।জেনারেল ও রিজার্ভ ফান্ডের টাকা অবৈধভাবে আত্মসাৎ করা হলে কে কবে আত্মসাৎ করেছে অভিযোগে এর বিস্তারিত উল্লেখ নেই। ম্যানেজিং কমিটির সুপারিশসহ যৌথ স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলনের নিয়ম। সেখানে একক ব্যক্তি কিভাবে টাকা উত্তোলন করতে পারে বিষয়টি বোধগম্য নয়।বিদ্যালয়টি যদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অবস্থিত থাকে তবে বিদ্যালয়ের নামীয় জমি কোথায়? বিদ্যালয়টি যদি সাড়ে ৯ শতাংশ জমির উপরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে তবে এ জমি কি ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে? দলিল না দেখে এমন মন্তব্য করা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়। কথায় আছে শিক্ষক থাকলে শিক্ষার্থী থাকবে আর শিক্ষার্থী থাকলে শ্রেণীকক্ষ, লাইব্রেরী, কম্পিউটার ল্যাব,কমনরুম থাকবে। তবে বাথরুম থাকার কথা না।প্রধান শিক্ষক সোহরাব আলী যদি নিয়োগ বাণিজ্য করে থাকেন তবে কোন প্রার্থীর কাছ থেকে কবে ৩০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন এরই বা কি তথ্য প্রমাণ রয়েছে।শুধু তাই নয়, স্ত্রীর নামে যদি জমি আত্মসাৎ করে থাকেন এটি কার জমি? কোন মৌজার খতিয়ানভুক্ত এর তফশীল বর্ণনা করা উচিত ছিল। প্রশ্ন উঠেছে, সঠিক তথ্য প্রমাণ সংযুক্তি না করে অভিযোগ দায়েরের নেপথ্য রহস্য কি অনৈতিকভাবে স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা না অন্য কিছু?

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরও খবর পড়ুন:

Jonogoner Khobor - জনগণের খবর পোর্টালের গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:

 আমাদের পরিবার

About Us

Contact Us

Disclaimer

Privacy Policy

Terms and Conditions

Design & Developed by: Sheikh IT
sheikhit

জনগণের খবর পোর্টালের কোনো প্রকার নিউজ, ছবি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত অন্য কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। ধন্যবাদ।