,
সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

সুন্দরগঞ্জে আ. আজিজের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা, এলাকায় তোলপাড়

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০২২
  • ৪০৫ Time View

মাইদুল ইসলাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আ. আজিজের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করলেন ভুক্তভোগী ভিকটিমের মা। ঘটনার নেপথ্য রহস্য নিয়ে এলাকায় তোলপাড়।ম মামলার অভিযোগের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ,যুক্তি-তর্ক নিয়ে উঠেছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য।  জনমনে প্রশ্ন এটি বিয়ের সানাই বাজানোর চেষ্টা না অন্য কিছু?

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নিভৃত পল্লীতে গত ০৩-০৫-২০২২ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১১ টায় ভিকটিম ১২ বছর বয়সী মেয়েকে বাড়িতে রেখে মা কাজের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়েন। এ সুযোগে মমতাজ বেগম (৪০) নামের এক মহিলা বেড়ানোর কথা বলে ভিকটিমকে নিয়ে জনৈক বাচ্চা মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন রাস্তায় নিয়ে যায়। এখানে পৌঁছানো মাত্রই আ. আজিজ (২৫) একটি অজ্ঞাতনামা রিক্সাসহ সামনে এসে দাঁড়ায়। এ সময় মমতাজ বেগমের সহায়তায় আ. আজিজ ভিকটিমকে টানা হ্যাচরা করে মুখ ও হাত পা বেঁধে জোরপূর্বক অটোরিক্সায় তুলে নিয়ে বিভিন জায়গা ঘুরাফেরা করে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬ টা ৩৫ মিনিটে ১ টি অজ্ঞাতনামা জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে মমতাজ বেগমের সহায়তায় আ. আজিজ ভিকটিমকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এখান থেকে ফিরে রাতে জনৈক রুহুল আমিনের নির্মাণাধীন বিল্ডিং ঘরে ভিকটিমের হাত, পা ও মুখ বেঁধে আটকে রেখে আবারও ধর্ষণ করে। পরের দিন সকাল আনুমানিক সাড়ে ৫ টায় হাত, পা ও মুখের বাঁধন খুলে দিলে ভিকটিম বাড়িতে এসে মাকে বিষয়টি অবগত করেন।

এ ব্যাপারে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে গত ১৪-০৫-২০২২ ইং তারিখে আ. আজিজ ও মমতাজ বেগমকে আসামী করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা (নং-১৩/২২) দায়ের করেন।

জানা গেছে, আ. আজিজ উপজেলার নিজপাড়া গ্রামের বয়জার রহমানের পুত্র। মমতাজ বেগম একই গ্রামের কছর উদ্দিনের স্ত্রী।

এদিকে, বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনার নেপথ্য রহস্য নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে তোলপাড়। মামলার অভিযোগের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ,যুক্তি-তর্ক নিয়েও উঠেছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। অনেকেই বলছেন কে এই মমতাজ বেগম? এই মমতাজ বেগমের সাথে ওই ভিকটিমের সম্পর্কই বা কি? ভিকটিম কোন বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে মমতাজ বেগমের সাথে বের হয়ে পড়লেন বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। জনৈক বাচ্চা মিয়ার বসত বাড়ির সামনে কাচা রাস্তার দু’ধারে পূর্ব-পশ্চিম দিকে অসংখ্য বসতি রয়েছে। যেহেতু দিনটি ছিল পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন সেহেতু এই দিনে প্রতিটি বাড়ি লোকজনের সমাগমে মুখরিত থাকে এবং রাস্তাঘাট গুলোতে লোকজনের যাতায়াত ছাড়াও বিভিন্ন বয়সী ছেলে মেয়েদের বিচরণ ঘটে থাকে। এমন অবস্থার মুখে সকাল আনুমানিক ১১ টায় মমতাজ বেগমের সহায়তায়  আ. আজিজ যদি ভিকটিমকে টানা হ্যাচড়া করে মুখ,হাত বেঁধে জোরপূর্বক অটোরিক্সায় তুলে থাকেন তবে, টানা হ্যাচড়ার সময় অবস্থার বেগতিক দেখে ভিকটিম পারতেন চিৎকার দিয়ে আত্মরক্ষা করতে। এছাড়াও মুখ,হাত বাঁধা অবস্থায় রাস্তা দিয়ে যাবার সময় কিংবা কোথাও ঘুরাফেরা করার সময় দৃশ্যটি কারো না কারো নজরে পড়ত। নজরে পড়েছে এমন প্রত্যক্ষদর্শীই বা কারা। যেহেতু ভিকটিমের মুখ,হাত বাঁধা চোখ খোলা ছিল এ কারণে কোন রাস্তা দিয়ে কোন জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে মমতাজ বেগমের সহায়তায় আঃ আজিজ ধর্ষণ করলো বিষয়টি ভিকটিমের জানার কথা। এ সময় বয়ষ্ক মহিলা মমতাজ বেগমের সহায়তায় কিভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে বিষয়টি বোধগম্য নয়৷ দিন শেষে রাতে জনৈক রুহুল আমিনের নির্মাণাধীন বিল্ডিং ঘরে যদি হাত,পা বেঁধে ধর্ষণ করে থাকে এ সময় মমতাজ বেগম কোথায় ছিলেন? এবং কি দিয়ে ভিকটিমের মুখ,হাত,পা বাঁধা হয়েছিল তা মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা উচিত ছিল।

প্রকৃতপক্ষে ভিকটিম তার বান্ধবীর বাড়িতে না ভগ্নিপতির বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন বিষয়টিও খতিয়ে দেখা উচিত। যেহেতু ধর্ষণ একটি আমলযোগ্য, সালিশ অযোগ্য এবং জামিন অযোগ্য অপরাধ। এ কারণে ধর্ষণের ২৪ ঘন্টার মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব থানায় গিয়ে প্রাথমিক আলামতসহ এজাহার দায়ের করা এবং ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন না পর্যন্ত গোসল ও পরিধেয় বস্ত্র ধৌত না করা। যত দ্রুত সম্ভব ২৪ ঘন্টার মধ্যে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা। সেখানে ঘটনা ঘটার ৯ দিন পর মামলা দায়েরের নেপথ্য রহস্য কি বিয়ের সানাই বাজানো না শত্রুতা হাসিলের চেষ্টা?

এও বলাবলি হচ্ছে মমতাজ বেগম(৪০) আঃ আজিজের আপন চাচী। প্রশ্ন উঠেছে, বয়ষ্ক আপন চাচী মমতাজ বেগম কি করে আপন ভাতিজার ধর্ষণ ঘটনায় সহায়তা করতে পারেন। বিষয়টি যেমন লজ্জাষ্কর তেমনি অবাক করার মতো। আঃ আজিজের বয়স জন্ম সনদ অনুযায়ী প্রায় ১৪ বৎসর সেখানে মামলায় ২৫ বছর উল্লেখ করার বিষয়টিও হাস্যকর ও রহস্যজনক। মামলার সাক্ষী আসাদুর রহমান ও আলম মিয়ার সাথে আঃ আজিজের পিতা বয়জার রহমানের দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সাক্ষী তারা মিয়াও মারা গেছেন। ৪ নং সাক্ষী ভিকটিমের আপন ভগ্নিপতি  সচেতন মহলের দাবী, পুলিশ প্রশাসন তৎপর হলে সঠিক তদন্তে বেড়িয়ে আসবে ঘটনার আসল নেপথ্য রহস্য। সেই সাথে মিলবে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরও খবর পড়ুন:

Jonogoner Khobor - জনগণের খবর পোর্টালের গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:

 আমাদের পরিবার

About Us

Contact Us

Disclaimer

Privacy Policy

Terms and Conditions

Design & Developed by: Sheikh IT
sheikhit

জনগণের খবর পোর্টালের কোনো প্রকার নিউজ, ছবি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত অন্য কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। ধন্যবাদ।