,
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০২:০০ অপরাহ্ন

বিদেশি জাতের আম চাষে মান্নানের অভূতপূর্ব সাফল্য

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৩ জুন, ২০২৩
  • ৩৭ Time View

গোলাম সারোয়ার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ সারি সারি আম গাছ। সবুজ পাতার মাঝে ধরে আছে মিয়াজাকি বা সূর্যডিম, চিয়াংমাই, ডকমাই, ব্রুনাই কিং, আমেরিকান পালমা, কিউযায়সহ নানা প্রজাতির বিদেশি জাতের আম। এমন দৃশ্য দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের দেবগ্রাম এলাকায় আব্দুল মান্নান মিয়ার আম বাগানে। ঐসব আমের আকার-আকৃতি, রং, মিষ্টতা আর স্বাদ রয়েছে প্রচলিত আম থেকে ভিন্ন। এরই মধ্যে তার গাছের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। যা আগত লোকদেরকে মুগ্ধ করছে।

আব্দুল মান্নান মিয়া ঐ গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান ডিলারের ছেলে। তিনি বলেন, ছোট বেলা থেকেই গাছের প্রতি আমার অন্য রকম শখ ছিল। কিন্তু চাকরি করার সুবাদে বাগান করার সুযোগ হয়নি। চাকরি থেকে অবসরে বাড়িতে আসার পর গত ২ বছর আগে ইউটিউবের কল্যাণে দেশি-বিদেশি নানা জাতের আম চারা ও চাষ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেই। এরপর স্থির করি বাড়িতে বিদেশি জাতের আমের বাগান করার। পরে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে বাড়ি সংলগ্ন প্রায় ২০ শতক জায়গার মধ্যে বিদেশি জাতের আম বাগান গড়ে তুলি।

অনলাইনের মাধ্যমে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চারা সংগ্রহ করি। বর্তমানে আমার বাগানে ৩০টি বিদেশি গাছ রয়েছে। যা প্রত্যেকটি গাছে ফলন এসেছে। পাশাপাশি রয়েছে দেশীয় গাছও।

সরেজমিনে বাগান পরিদর্শনে দেখা যায়, চারদিকে নেটজাল আর জালি দিয়ে বেড়া। ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ছে সারি সারি বিদেশি জাতের আমের গাছ। প্রতিটি গাছের বয়স প্রায় ৩ বছর। লম্বা রয়েছে সাধারণত ৭-৮ ফুট। প্রতিটি গাছে শোভা পাচ্ছে মিয়াজাকি বা সূর্যডিম, চিয়াংমাই, ডকমাই, ব্রুনাই কিং, আমেরিকান পালমা, কিউযায়সহ নানা প্রজাতির বিদেশি জাতের আম। বেশ কয়েকটি গাছের আম দেখা যায় অনেকটা পেঁপের মতো। কাঁচা অবস্থায় এর রং কালো সবুজ। আবার অনেক গাছে দেখা যায় রঙিন আম।

কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, বিদেশি জাতের রঙিন আম দেখতেই এখানে এসেছি। আগে কোথাও এসব আম চাষ হয়নি। বিদেশি জাতের আম দেখে খুবই ভালো লেগেছে।

চাষি আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, কৃষি কাজের প্রতি আমার আগ্রহ অনেক আগ থেকেই। চারা ক্রয়, রোপণ, বেড়া দেওয়াসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ বছর প্রতিটি গাছে ভালো ফলন এসেছে। বেশ কয়েকটি গাছের মধ্যে ফলন এসেছে, যার প্রতিটা আমের ওজন হবে ২ কেজি। আর কিছু গাছে এক একটি আমের ওজন ৩০০ গ্রামের উপর হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের মাটিতে বিদেশি জাতের আমের ফলন নিয়ে এক প্রকার দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু এখন আর সেটি নেই। আশা করছি ফলন ভালই হবে।

পৌর শহরের কলেজপাড়া এলাকার মো. সাব্বির হোসেন বলেন, লোকমুখে শুনে আমি এই বাগান দেখতে এসেছি। এই প্রথম আমি বিদেশি নানা জাতের আম দেখলাম।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, এ উপজেলায় নানা প্রজাতির বিদেশি জাতের আমের আবাদ শুরু হয়েছে। ঐসব আম দেখতে খুবই সুন্দর, রয়েছে সুস্বাদুও। তবে সৌখিন মানুষরা মূলত এ চাষ করছে বেশি। পৌর শহরের দেবগ্রাম এলাকায় আব্দুল মান্নান এ চাষ করে বেশ সাফল্য পেয়েছেন। ফলন ভাল করতে তাকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা গেলে কৃষক লাভবান হবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরও খবর পড়ুন:

Jonogoner Khobor - জনগণের খবর পোর্টালের গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:

 আমাদের পরিবার

About Us

Contact Us

Disclaimer

Privacy Policy

Terms and Conditions

Design & Developed by: Sheikh IT
sheikhit

জনগণের খবর পোর্টালের কোনো প্রকার নিউজ, ছবি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত অন্য কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। ধন্যবাদ।