,
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৫৪ অপরাহ্ন

উন্নয়ন প্রকল্পের মাটি ভরাটের নামে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০২২
  • ১৩৪ Time View

খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ঘোনা গ্রামে সরকারিভাবে ক্রয়কৃত জমির উপর প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন -৩ প্রকল্লের ঘর নির্মানে অনিয়ম সহ উন্নয়ন প্রকল্পের অধিনে মাটি ভরাটের নামে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কোন পরিবার আর ভুমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না।  আশ্রয়ন -৩ প্রকল্পের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র “ক” শ্রেণির পরিবার প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের জমি সহ ঘর পাবেন। এরই ধারাবাহিকতায় সারা দেশের ন্যায় সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ০৭নং ইসলামকাটি ইউনিয়নের ০৯নং ওয়ার্ড ঘোনা গ্রামে আশ্রয়ন প্রকল্পের অধিনে তৃতীয় ধাপে ভুমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মানের লক্ষ্যে সরকারিভাবে ৩৯ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়।

আশ্রয়ন প্রকল্পের অধীনে ১৬ টি ঘর নির্মানের জন্য উপজেলা প্রশাসনের তদারকির মাধ্যমে কাজ শুরু করা হয়। প্রতিটি ঘরের জন্য ব্যয় নির্ধারন করা হয় ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫ শত টাকা।  আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মান কাজের গুনাগত মান ভালো না হওয়ায় অনেকে প্রশ্ন তোলেন।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে  দেখা যায়, আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরের ছাউনির আগে রো-বাটামে ব্যবহার হচ্ছে অপরিপক্ক শিশু গাছ। ঘরের জানালা, দরজায় ব্যবহার করা হচ্ছে পুরাতন লোহার রড ও পুরাতন প্লেন শিট। এসব দুর্নীতির কারণে প্রধানমন্ত্রীর টেকসই ঘর নির্মানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন অধোরা থেকে যাচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। স্থানীয় ও সুশীল সমাজের মতে,  কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর তৈরির নামে কিছু সংখ্যক কর্তারা নিজেদের পকেট ভারি করছে। তারা আশংকা প্রকাশ করে বলেন,  আশ্রয়ন প্রকল্পের অধিনে ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের লোকজন কে ঘর হস্তান্তর করার পরবর্তী সময় সামান্য ঝড় উঠে এসব ঘরের রো-বাটম সহ ছাউনি ভেঙে পড়বে। এ ছাড়া মরিচা ধরা পুরাতন লোহার জানালার  রড ও দরজায়   পুরাতন প্লেন শিট ব্যবহারের কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে বলে তারা আশংকা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মানের ক্রয়কৃত জমি মাটি ভরাটের নিমিত্তে তালা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে  উন্নয়ন প্রকল্পের অধিনে কাবিখা / কাবিটা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

জানা গেছে,  মাটি ভরাটের জন্য উল্লেখিত বরাদ্দের বিপরীতে কাজের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক। অভিযোগ উঠেছে, চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক কাবিটার নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে নিজের পকেট ভারি করার জন্য অবৈধ পন্থা অবলম্বন করেছেন।  তিনি উন্নয়ন প্রকল্পের অধিনে কাবিখা/ কাবিটা মাটি ভরাটের নামে উল্লেখিত ইউনিয়নের ঘোনা পালপাড়া জনবসতি এলাকার ৫০ গজ দুরে খাল থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ভুগর্ভস্থ  থেকে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে জায়গা ভরাট করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, আশ্রয়ন প্রকল্পের জমিতে মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দের বড় অংশ খরচের তালিকায় চলে যাওয়ার আশংকায় হিসাব নিকাশ শেষে অধিক লাভের আশায় খাল থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন শেষে অবশিষ্ট বেচে যাওয়া সিংহভাগ টাকা উপজেলা প্রশাসন সহ চেয়ারম্যান এর মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়েছে বলে দাবী করেন। তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস এর সাথে মুঠো ফোনে আলাপ কালে তালা উপজেলার ইসলামকাটি আশ্রয়ন প্রকল্পের অধিনে ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য টিনের ছাউনি বিশিষ্ট পাকা ঘর নির্মানে ছাউনির জন্য প্রস্তুতকৃত রো-বাটমে অপরিপক্ক শিশু গাছের ব্যবহার,  ঘরের জানালায় পুরাতন লোহার রড এবং দরজায় পুরাতন লোহার প্লেন শিট ব্যবহার করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরাতন লোহা ব্যবহার হলে পরিবর্তন করা হবে।

অপরিপক্ক শিশু গাছের ব্যবহার করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন আপনি সরেজমিনে গেছেন? আমি নিয়মিত মনিটরিং করছি। বৈধভাবে মাটি ভরাট না করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধ পন্থায় পালপাড়া খাল থেকে চেয়ারম্যান কতৃক বালু উত্তোলনের মাধ্যমে    আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মানের জন্য  ক্রয়কৃত জমিতে বালু ভরাটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জানিনা। স্থানীয় চেয়ারম্যান উন্নয়ন প্রকল্পের অধিনে কাবিটা বরাদ্দের মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী মাটি ভরাটের কথা৷

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান কোথা থেকে বালু / মাটি ভরাট করবে তা আমার দেখার বিষয় না। ভরাট হয়েছে কিনা সেটা আমার দেখার বিষয়। ভুগর্ভস্থ থেকে অবৈধ পন্থায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিবেন কি না জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে কৌশলে এড়িয়ে যান। ইসলামকাটি ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক এর সাথে মুঠো ফোনে আলাপ কালে ইসলামকাটি আশ্রয়ন প্রকল্পের জমিতে পালপাড়া খাল থেকে অবৈধ পন্থায়  ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে ভরাট করার বিষয়ে জানতে চাইলে  তিনি বলেন আমি কোন ভরাটের কাজ করিনি। এ বিষয়ে তালা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওবায়দুল হক এর সাথে মুঠো ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে  আলাপের চেষ্টাকালে  আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরও খবর পড়ুন:

Jonogoner Khobor - জনগণের খবর পোর্টালের গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:

 আমাদের পরিবার

About Us

Contact Us

Disclaimer

Privacy Policy

Terms and Conditions

Design & Developed by: Sheikh IT
sheikhit

জনগণের খবর পোর্টালের কোনো প্রকার নিউজ, ছবি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত অন্য কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। ধন্যবাদ।