,
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৩১ অপরাহ্ন

আনসার বিদ্রোহ: ২৩৬০ জনের চাকরি পুনর্বহালের আপিল নিষ্পত্তি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০২২
  • ১৯৪ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রায় তিন দশক আগে ১৯৯৪ সালে আনসার বিদ্রোহের ঘটনায় অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়াদের মধ্যে যাদের বয়স ও শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা আছে তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল প্রশ্নে আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তবে, রাযয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখলেও কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক।

মঙ্গলবার (০২ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আবেদনকারীদের পক্ষে আজ আদালতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, মো. সালাহ উদ্দীন দোলন ও ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

এর আগে গত ১৬ জুন প্রায় তিন দশক আগে ১৯৯৪ সালে আনসার বিদ্রোহের ঘটনায় অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়া ২ হাজার ৩৬০ জন রিটকারীর মধ্যে যাদের বয়স ও শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা রয়েছে তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল বিষয়ে রায়ের জন্য আগামী ২ আগস্ট দিন ধার্য করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তারই ধারাবাহিকতায় আজ এ রায় এলো।

এদিন আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, অ্যাডভোকেট মো. সালাহ উদ্দিন দোলন ও ব্যারিস্টার অনীক আর হক। অন্যদিকে আনসার ভিডিপি মহাপরিচালকের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে ১৯৯৪ সালের ৩০ নভেম্বর আনসার বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। যা পরবর্তীকালে বিদ্রোহে রূপ নেয়। সেনাবাহিনী, বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) ও পুলিশের সহযোগিতায় ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে ২ হাজার ৬৯৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে কয়েকজনকে চাকরিতে পুনর্বহাল হলেও বাকি ২ হাজার ৪৯৬ আনসার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

পরে চাকরিচ্যুদের বিরুদ্ধে পৃথক সাতটি ফৌজদারি মামলা করা হয়। এরমধ্যে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা বিচারে খালাস পান। এ অবস্থায় তারা চাকরি ফিরে পেতে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন। কিন্তু তাদের চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়নি।

এ কারণে প্রথমে ২৮৯ জন ও পরে ১ হাজার ৪৪৭ জন চাকরিতে পুনর্বহাল এবং প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। পরবর্তীকালে ৬৪৭ জন পৃথক দুটি রিট করেন। পরে ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল ২৮৯ জন এবং ওই বছরের ১০ জুলাই ১ হাজার ৪৪৭ জনকে চাকরিতে পুনর্বহালের রায় দেন হাইকোর্ট। ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ৬৭৪ জন নিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ের পর আইনজীবীরা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ১৯৯৪ সালের ৩০ নভেম্বর সংঘটিত আনসার বিদ্রোহের ঘটনায় চাকরিচ্যুত আনসারদেরকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে যাদের শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা আছে তারাই চাকরি ফেরত পাবেন। কিন্তু যাদের সক্ষমতা নেই তারা যতদিন চাকরিতে ছিলেন তাদের ততদিনের পেনশন সুবিধা দিতে বলা হয়েছে। আদালতের এ নির্দেশ রায় পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়ে।

এরপর আনসার ভিডিপির মহাপরিচালক আপিল বিভাগে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করেন। সে আবেদনের শুনানি শেষ করে রায়ের দিন নির্ধারণ করলেন আপিল বিভাগ।

কী ঘটেছিল সেদিন: ১৯৯৪ সাল। আনসার বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে তা বিদ্রোহ হিসেবে রূপ নেয় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর। এরপর সেনাবাহিনী, বিডিআর ও পুলিশের সহযোগিতায় ৪ ডিসেম্বর বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার হন আনসারের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। ওই ঘটনায় সরকারি হিসেবে দুজন আনসার সদস্য নিহত হওয়ার কথা জানা যায়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের ৩০ নভেম্বর আনসার বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়, যা পরবর্তীকালে বিদ্রোহের রূপ নেয়। পরে সেনাবাহিনী বিদ্রোহ দমন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর কিছু সংখ্যক আনসার সদস্য পলাতক হন। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আলোকে বিদ্রোহে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ হাজার ৪৯৬ জন আনসার সদস্যকে অ-অঙ্গীভূত (চাকরিচ্যুত) করা হয়। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে মামলার অভিযোগ থেকে আনসার সদস্যরা খালাস পান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরও খবর পড়ুন:

Jonogoner Khobor - জনগণের খবর পোর্টালের গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ:

 আমাদের পরিবার

About Us

Contact Us

Disclaimer

Privacy Policy

Terms and Conditions

Design & Developed by: Sheikh IT
sheikhit

জনগণের খবর পোর্টালের কোনো প্রকার নিউজ, ছবি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত অন্য কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। ধন্যবাদ।